চীনের রাষ্ট্রদূতকে বিদায় জানালেন পররাষ্ট্র সচিব
- আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ইয়াও ওয়েনের সক্রিয় সহযোগিতা ও মূল্যবান অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ‘নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভাগ্যের অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সফরটি সফল করতে চীনের সহযোগিতা এবং যৌথ ইশতেহার জারির বিষয়টিও প্রশংসার সঙ্গে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব।
সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের চলমান সহযোগিতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এবং বাংলাদেশে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ) প্রতিষ্ঠা।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র সচিব।
‘চার বছর অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও স্মরণীয়’
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তাকে সম্মান জানানোর জন্য পররাষ্ট্র সচিবকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালকে তিনি ‘অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও স্মরণীয়’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের কার্যক্রম সহজতর করতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে আশাবাদ
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে বাংলাদেশের প্রতি চীনের ধারাবাহিক সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের সহায়তায় চীনের পক্ষ থেকে ৮ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।
মধ্যাহ্নভোজ শেষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পারস্পরিক উপহার বিনিময় করেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব চীনা রাষ্ট্রদূতের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য ও শুভকামনা জানান।


























