গুপ্ত হত্যা চালানো শক্তি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
বিগত সময়ে গুপ্ত হত্যা চালিয়েছে, এমন শক্তি এখনো সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, দেশে অতীতে যারা গুপ্ত হত্যার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের তৎপরতা নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। এসব শক্তি যাতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা।
দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটার পর প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।
উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, অতীতে গুপ্ত হত্যার সঙ্গে জড়িত শক্তি এখনো সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্র করছে। এ ধরনের তৎপরতা দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই অপরাধীদের তৎপরতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, দুষ্কৃতকারীদের উত্থান ঘটলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই সম্প্রীতি বানচাল করতে অনেকে ষড়যন্ত্র করছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি কিংবা উৎসবকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সামাজিক সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর মতে, কোনো গোষ্ঠী যাতে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
দুর্গাপূজার মণ্ডপ পাহারার আহ্বান
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সবাইকে পূজামণ্ডপ পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, পূজার সময় পলাতক শক্তি যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপশক্তি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গাপূজার সময় যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে জন্য সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রিজভীর বক্তব্যে দেশের নিরাপত্তা, সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি, অপরাধ দমন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

























