খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের আতঙ্ক, ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
খাগড়াছড়িতে অবিরাম বর্ষণে পাহাড় ধসের চরম আতঙ্কে দিন কাটছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের। এরই মধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরো জেলায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হলেও স্থায়ী সমাধানের দাবি সচেতন মহলের।
প্রতিবছর বর্ষা এলেই খাগড়াছড়ির পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের মধ্যে শুরু হয় মৃত্যু-আতঙ্ক। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলাটিতে এখনো বড় কোনো দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি না ঘটলেও, বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যেই ঘটেছে বেশকিছু পাহাড় ধসের ঘটনা।
বিশেষ করে খাগড়াছড়ি পৌর শহরের সবুজবাগ, শালবাগান, কুমিল্লাটিলা, কলাবাগানসহ বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসের শঙ্কা সবচেয়ে বেশি। যাওয়ার বিকল্প জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়েই বাস করছেন বাসিন্দারা।
সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রতিবছর দুর্যোগের সময় দায় এড়াতে প্রশাসনের তৎপরতা কেবল মাইকিং আর সাময়িক তালিকা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের কোনো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ দেখা যায় না।
তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদ দূরত্বে সরানোর কাজ নিয়মিত করা হচ্ছে এবং কেউ নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও স্থানীয়দের ধারণা, শুধু পৌর এলাকাতেই ২০ থেকে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার এবং পুরো জেলায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার পরিবার চরম ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন।
প্রতি বর্ষায় পাহাড় ধসে যেন আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য সাময়িক মাইকিং নয়—বরং স্থায়ী আবাসনের মাধ্যমে স্থায়ী সুরক্ষার দাবি খাগড়াছড়িবাসী ও সচেতন মহলের।
























