আতঙ্কের জনপদ চট্টগ্রামের রাউজান
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / ১৫২৬ বার পড়া হয়েছে
আতঙ্কের জনপদ চট্টগ্রামের রাউজান। উপজেলাটিতে গত ২২ মাসে অন্তত ২৫ জন খুন হয়েছেন। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এসব হত্যাকান্ডের শিকার। হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত অনেক আসামী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ বলছে, খুন করে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে পালিয়ে যায়, যে কারণে তাদের ধরা কঠিন।
গত শনিবার চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এই হত্যাকান্ডের সিসিটিভি ফুটেজে পাঁচজনকে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। ঘটনার সময় দু’জনের হাতে শটগান ও তিনজনের হাতে পিস্তল ছিল। তারা প্রথমে মাসুদুলকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর গুলি ছুড়ে সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে পালিয়ে যায়।
গত ২২ মাসে রাউজানে ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে ২৫টি মামলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবার বলছে, প্রকৃত খুনী ও অস্ত্রধারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী এবং হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে কোটি টাকার বাণিজ্য করা হয়। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া পাহাড় কাটা, ইট ও মাটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেও রাউজানে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করে পুলিশ।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে রাউজানে সহিংসতা বন্ধ হবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।























