ইসলামে ঘুষদাতা-গ্রহীতা উভয়ের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা
- আপডেট সময় : ০৩:০২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
ঘুষ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের একটি অবৈধ মাধ্যম। সামাজিকভাবে এটি গুরুতর অপরাধ, আর ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে ভয়াবহ পাপ। ইসলাম ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার কোনো সুযোগ দেয় না; বরং এটিকে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাতের শামিল হিসেবে গণ্য করেছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “তোমরা নিজেদের মধ্যে একজন অপরজনের ধনসম্পদ অবৈধভাবে গ্রাস করো না। মানুষের ধনসম্পদের কিছু অংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের ঘুষ দিও না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)
ইসলামি শিক্ষায় ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া—উভয়ই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঘুষদাতা, ঘুষগ্রহীতা এবং তাদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী—সবার প্রতি অভিসম্পাত করেছেন।
হাদিসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুষ গ্রহণকারী, ঘুষদাতা এবং উভয়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারীকে অভিশাপ করেছেন।” এ বাণী থেকে স্পষ্ট হয়, ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকেই গুরুতর গুনাহের অংশীদার।
আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “ঘুষখোর এবং ঘুষদাতার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ।” (তাহাবি)
এ ছাড়া তাবারানির বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “ঘুষদাতা এবং ঘুষখোর উভয়ই জাহান্নামি।” ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এসব হাদিস ঘুষের ভয়াবহতা ও এর কঠিন পরিণতি সম্পর্কে মুসলমানদের সতর্ক করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুষের বিস্তার সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়। একই সঙ্গে সহজে অবৈধ অর্থ অর্জনের প্রবণতা দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যান্য অপরাধকে উৎসাহিত করে।
অনেকের মতে, অস্ত্রের মুখে অর্থ আদায় আর ফাইল আটকে ঘুষ আদায়ের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ আদায় করা হয়—শুধু পদ্ধতিটা ভিন্ন।
অভিজ্ঞজনদের মতে, ন্যায়ভিত্তিক ও আদর্শ সমাজ গড়ে তুলতে ঘুষের লেনদেন বন্ধের কোনো বিকল্প নেই। কারণ সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘুষের সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করলে দুর্নীতি, বৈষম্য, ভীতি ও অবিচার বাড়ে। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে ঘুষের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর অবস্থান গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।



























