আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতির আহ্বান শফিকুর রহমানের
- আপডেট সময় : ০১:৩৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫২৭ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে সরকারকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে দেশবাসীকে ‘আরেকটি বিপ্লবের’ জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, তাহলে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের মতোই আচরণ করছে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান না করলে তাদেরও পরিণতি পূর্বসূরিদের মতো হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পাপের পরিণতি পেতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু একসময় সেই পাপই পচে গিয়ে ঝরে পড়ে। এখন সেই পাপে পচন ধরেছে। সরকার যদি তা বুঝতে পারে, তাহলে ভালো। না বুঝতে পারলে তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের বিষয় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মতো আগামী আন্দোলনেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবে। একই সঙ্গে তিনি জেল-জুলুম বা মৃত্যুদণ্ডের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “জাতির মুক্তির জন্য যদি ফাঁসির রশিও প্রয়োজন হয়, তবে সেটিকে ফুলের মালা হিসেবে গ্রহণ করব। ফাঁসির মঞ্চেও আমরা ভীত হব না।”
সরকারের প্রতি জনগণের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির দাবি করেন, “৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে অস্বীকার করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আপসের জন্য তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও প্রলোভন সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে জনগণের গণরায় রক্ষায় তারা অনড় থাকবেন বলেও জানান।
দেশের শিক্ষাঙ্গনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরে মূল্য বাড়িয়ে সংকট নিরসন করা হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে, তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক নেতার বক্তব্যকে তিনি এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশের শেষ দিকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


























