এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৭ বার পড়া হয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তাও এখন নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় এআইয়ের কোনো প্রভাব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি।
এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক সমঝোতার আহ্বান
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ফেক নিউজের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিত্ব ও পরিচয় বদলে দেওয়া হচ্ছে। সত্যকে গুজব এবং গুজবকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এআইয়ের অপব্যবহারে বিশ্ব ক্রমেই অচেনা হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, এআইয়ের ওপর মানুষের জ্ঞানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের মতো এআইয়ের কমনসেন্স নেই। সুপার এআই আসার আগেই এটি নিয়ন্ত্রণে নতুন বৈশ্বিক সংস্থার মাধ্যমে সমঝোতা প্রয়োজন।
তার মতে, এআই ব্যবহারে বৈশ্বিক আইনি বিধানও দরকার। কারণ প্রযুক্তিটি বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি এআই নির্মাতারাও এর কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন।
কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে
মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, এআইকে কেন্দ্র করে বিশ্বে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি হবে। এর ফলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে এআইয়ের সঙ্গে খাপ খাইয়েই মানুষকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
ভুয়া কনটেন্টে বাড়ছে প্রতারণা
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য উপকারী হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির হাতিয়ার হতে পারে।
তিনি বলেন, চিকিৎসা, কৃষি, দুর্যোগের পূর্বাভাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রাহকসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে অপপ্রচার ও প্রতারণাও বাড়ছে।
কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এআইয়ের অপব্যবহারে অপসাংবাদিকতার প্রবণতাও বাড়ছে। এটি প্রতিরোধ করা না গেলে মূলধারার গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে মানুষের সংবাদে বিশ্বাসযোগ্যতাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ছায়া সংসদে তিতুমীর কলেজের জয়
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন।
প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।



























