০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিতাসে দেশের সবচেয়ে গভীর কূপের খনন, মিলতে পারে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন তিনটি কূপ খনন করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। এর মধ্যে ৩১ নম্বর কূপটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে খনন করা হচ্ছে। তিনটি কূপ থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় চলছে ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ। কূপটি ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর করার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে।

৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর হবে কূপ

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ৩১ নম্বর কূপের খনন শুরু হয়। এর আগে তিতাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে গভীর স্তরে গ্যাসের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

বিজিএফসিএলের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, চলতি বছরেই ৩১ নম্বর কূপের খনন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, গভীর স্তরে উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার বিভিন্ন জোন রয়েছে। তাই খননকাজে কারিগরি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নির্দিষ্ট সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

তিন কূপ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের আশা

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৩টি কূপ চালু রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। তবে পুরোনো কূপগুলোর চাপ ও মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমছে।

এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএফসিএল। এর মধ্যে ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ চলছে। ২৯ নম্বর কূপের কাজ শেষ হলে একই রিগ দিয়ে ৩০ নম্বর কূপ খনন করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, তিনটি কূপ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে তিন কূপের কাজ শেষ হতে পারে।

গভীর স্তরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা

সিসমিক জরিপের ভিত্তিতে তিতাসের গভীর স্তরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, তিতাসে আগে ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার গভীরে উচ্চচাপের একটি জোন পাওয়া যায়। সে কারণে তখন আরও গভীরে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে ৫ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত খননের মাধ্যমে ওই গভীর স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। এর ফলে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন গ্যাসের মজুত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এলএনজি আমদানির চাপ কমাতে পারে দেশীয় গ্যাস

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এই গ্যাস দেশের মোট চাহিদার তুলনায় খুব বেশি না হলেও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশীয় গ্যাস পাওয়া গেলে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাসের তুলনায় আমদানি করা এলএনজির খরচ অনেক বেশি। ফলে নতুন কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

তিতাসের পাশাপাশি বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বন্ধ কূপে ওয়ার্কওভার এবং নতুন কূপ খননের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ইতিহাস

১৯৬২ সালে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি। এরপর ১৯৬৮ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম প্রধান গ্যাসক্ষেত্র।

নতুন তিনটি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে তিতাসের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তিতাসে দেশের সবচেয়ে গভীর কূপের খনন, মিলতে পারে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন তিনটি কূপ খনন করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। এর মধ্যে ৩১ নম্বর কূপটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে খনন করা হচ্ছে। তিনটি কূপ থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় চলছে ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ। কূপটি ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর করার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে।

৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর হবে কূপ

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ৩১ নম্বর কূপের খনন শুরু হয়। এর আগে তিতাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে গভীর স্তরে গ্যাসের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

বিজিএফসিএলের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, চলতি বছরেই ৩১ নম্বর কূপের খনন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, গভীর স্তরে উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার বিভিন্ন জোন রয়েছে। তাই খননকাজে কারিগরি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নির্দিষ্ট সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

তিন কূপ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের আশা

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৩টি কূপ চালু রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। তবে পুরোনো কূপগুলোর চাপ ও মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমছে।

এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএফসিএল। এর মধ্যে ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ চলছে। ২৯ নম্বর কূপের কাজ শেষ হলে একই রিগ দিয়ে ৩০ নম্বর কূপ খনন করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, তিনটি কূপ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে তিন কূপের কাজ শেষ হতে পারে।

গভীর স্তরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা

সিসমিক জরিপের ভিত্তিতে তিতাসের গভীর স্তরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, তিতাসে আগে ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার গভীরে উচ্চচাপের একটি জোন পাওয়া যায়। সে কারণে তখন আরও গভীরে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে ৫ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত খননের মাধ্যমে ওই গভীর স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। এর ফলে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন গ্যাসের মজুত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এলএনজি আমদানির চাপ কমাতে পারে দেশীয় গ্যাস

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এই গ্যাস দেশের মোট চাহিদার তুলনায় খুব বেশি না হলেও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশীয় গ্যাস পাওয়া গেলে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাসের তুলনায় আমদানি করা এলএনজির খরচ অনেক বেশি। ফলে নতুন কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

তিতাসের পাশাপাশি বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বন্ধ কূপে ওয়ার্কওভার এবং নতুন কূপ খননের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ইতিহাস

১৯৬২ সালে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি। এরপর ১৯৬৮ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম প্রধান গ্যাসক্ষেত্র।

নতুন তিনটি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে তিতাসের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।