শেয়ারবাজারে অর্থপাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারিতে প্রভাবশালীরা
- আপডেট সময় : ১২:৩২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
দেশের পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ ও অর্থপাচার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এখন থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেনকারী প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসাব বিশেষ নজরদারিতে থাকবে।
একই সঙ্গে বেনামে লেনদেন বন্ধ ও সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে ব্রোকারেজ হাউজ, পোর্টফোলিও ম্যানেজার ও মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএফআইইউর নতুন নির্দেশনা
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিএফআইইউ ‘সার্কুলার নং-৩১’ জারি করে পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ নীতিমালা তৈরি করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন নিয়ে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকের তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক
বিএফআইইউ জানিয়েছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে চিফ অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারের (ক্যামলকো) নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন করতে হবে। শাখা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন গ্রাহকের হিসাব খোলার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-কেওয়াইসি ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
কোনো কোম্পানির ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী কিংবা মূল নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে প্রকৃত সুবিধাভোগী হিসেবে শনাক্ত করতে হবে। তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পিইপি ও প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা
রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি (পিইপি), দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি (আইপি), আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হিসাবের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বা অফশোর কাঠামোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসী সত্তার সঙ্গে কোনো গ্রাহকের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
সন্দেহজনক লেনদেনে দ্রুত রিপোর্ট
অস্বাভাবিক, জটিল বা আর্থিক সংগতিহীন লেনদেন দেখা গেলে শাখা পর্যায়ের পরিপালন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিতভাবে জানাতে হবে। পরে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
লেনদেন সন্দেহজনক প্রমাণিত হলে ‘গো-এএমএল’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিএফআইইউতে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর) জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ছয় মাস পরপর হবে মূল্যায়ন
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে প্রতি ছয় মাস অন্তর স্ব-মূল্যায়ন করতে হবে। জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী এই মূল্যায়ন করতে হবে।
মূল্যায়নের সারসংক্ষেপ পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বিএফআইইউতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগকে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম যাচাই করতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক বা হিসাব বন্ধ হওয়ার পরও গ্রাহকের প্রয়োজনীয় তথ্য ও লেনদেনের দলিলপত্র অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএফআইইউর এই কঠোর নির্দেশনার ফলে পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের প্রবাহ কমবে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে।


























