০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের পর আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নীরব প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর নীরব প্রতিবাদ করেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের অ্যাডভোকেট লাউঞ্জের সামনে একদল আইনজীবী জড়ো হন। সেখানে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদ জানান।

স্লোগান ছাড়াই আইনজীবীদের অবস্থান

রায়ের প্রতিবাদে জড়ো হওয়া আইনজীবীদের প্রকাশ্যে কোনো স্লোগান দিতে দেখা যায়নি। তারা মূলত নীরব অবস্থানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিবাদ জানান।

তবে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবীকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করতে শোনা গেছে। রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় তাদের এ অবস্থানকে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নীরব প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কর্মসূচিতে বড় ধরনের মিছিল বা সমাবেশের আয়োজন ছিল না। আইনজীবীরা অ্যাডভোকেট লাউঞ্জের সামনে অবস্থান নিয়ে রায়ের বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান।

সাত নেতার মৃত্যুদণ্ড

এর আগে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পাঁচ আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

একই মামলায় পাঁচ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি অনুকূলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত করা এসব সম্পদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এর মাধ্যমে মামলার সাজা শুধু কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের রায়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

তবে তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত। প্রকাশ্যে কোনো বড় মিছিল বা উচ্চস্বরে স্লোগান দেওয়া হয়নি।

রায় ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রতিক্রিয়া

মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আইনজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অবস্থান সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

আইনজীবীদের একাংশ নীরব অবস্থানের মাধ্যমে রায়ের প্রতিবাদ জানালেও অন্যদের মধ্যে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। রায়ের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের পর আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নীরব প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর নীরব প্রতিবাদ করেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের অ্যাডভোকেট লাউঞ্জের সামনে একদল আইনজীবী জড়ো হন। সেখানে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদ জানান।

স্লোগান ছাড়াই আইনজীবীদের অবস্থান

রায়ের প্রতিবাদে জড়ো হওয়া আইনজীবীদের প্রকাশ্যে কোনো স্লোগান দিতে দেখা যায়নি। তারা মূলত নীরব অবস্থানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিবাদ জানান।

তবে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবীকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করতে শোনা গেছে। রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় তাদের এ অবস্থানকে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নীরব প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কর্মসূচিতে বড় ধরনের মিছিল বা সমাবেশের আয়োজন ছিল না। আইনজীবীরা অ্যাডভোকেট লাউঞ্জের সামনে অবস্থান নিয়ে রায়ের বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান।

সাত নেতার মৃত্যুদণ্ড

এর আগে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পাঁচ আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

একই মামলায় পাঁচ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি অনুকূলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত করা এসব সম্পদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এর মাধ্যমে মামলার সাজা শুধু কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের রায়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

তবে তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত। প্রকাশ্যে কোনো বড় মিছিল বা উচ্চস্বরে স্লোগান দেওয়া হয়নি।

রায় ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রতিক্রিয়া

মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আইনজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অবস্থান সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

আইনজীবীদের একাংশ নীরব অবস্থানের মাধ্যমে রায়ের প্রতিবাদ জানালেও অন্যদের মধ্যে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। রায়ের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।