মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ১২:২৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাত আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার শেষে এই সাজা ঘোষণা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামি
ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
এ ছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
অর্থাৎ মামলাটিতে মোট সাতজন আসামির বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে বিচার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। বিচার চলাকালে এসব অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়।
মামলার বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ শেষে উভয় পক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। এরপর গত ১৮ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার পর থেকেই মামলার রায় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত গত ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
নির্ধারিত দিনেই রায়
ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
রায়ে সাত আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাবে।
সাত আসামিই পলাতক
মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকর করা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ঘটনাগুলোর বিচার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই মামলার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রায়ের আগে কী হয়েছিল
মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এরপর ১৮ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় এ রায় এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


























