অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
খুলনায় অনলাইন বেটিং (জুয়া), অবৈধ অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. রাকিবুল ইসলাম (৩০), মো. আরিফুল ইসলাম আরজু (২৬), শেখ সাকির আহম্মেদ এবং মিয়ানুল ইসলাম অয়ন (২৯)। তারা সবাই খুলনার বাসিন্দা।
যেভাবে চলত বেটিং কার্যক্রম
সিআইডি জানায়, দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র অনলাইন বেটিং ও জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় আকৃষ্ট করা হতো।
এসব সাইটে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে টাকা জমা দিতে হতো। এ জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো। টাকা জমা দেওয়ার পর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যোগ করা হতো।
এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব বদল
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, অবৈধ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো।
দেশের বিভিন্ন এলাকার এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করা হতো। পরে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো।
এসব নম্বর ও ব্যাংক হিসাব বেটিং সাইটে প্রদর্শনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন।
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে পাচার
সিআইডির দাবি, সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন রেখে দিতেন। বাকি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হতো।
পরে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ওই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হতো। এরপর তা বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে সিআইডি।
সিআইডির সাইবার মনিটরিং সেলের তথ্য বিশ্লেষণের পর চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে খুলনায় অভিযান চালানো হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গ্রেপ্তারদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির মূলহোতাসহ দেশি-বিদেশি অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
























