কুমিল্লায় পুকুর ভরাট, ৩ শ্রমিকের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় পুরোনো একটি পুকুর ভরাটের সময় অভিযান চালিয়ে তিন শ্রমিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে পুকুর ভরাটে ব্যবহৃত আনুমানিক ২৬ হাজার ২৫০ ঘনফুট বালু ও মাটি জব্দ করা হয়েছে। ভরাট করা অংশ পুনঃখনন করে পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিবির বাজারসংলগ্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা জেলা কার্যালয় যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট মো. শফিকুল ইসলাম।
অভিযানের সময় পুকুর ভরাটের কাজে নিয়োজিত মো. ইয়াকুব, জাহেদুল ইসলাম ও ওবায়দুল্লাহ সিয়ামকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুকুরটির আয়তন প্রায় ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে ৮ থেকে ৯ শতাংশ জায়গা মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছিল। পুকুরটির মালিকদের মধ্যে সাফিকুল হাসান মজুমদার, হাসান মজুমদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১৫ দিন ধরে রাতে ট্রাকে করে মাটি ও বালু এনে পুকুরে ফেলা হচ্ছিল। এতে ধীরে ধীরে পুকুরটির একাংশ ভরাট হয়ে যায়। প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই পুকুরটি এলাকার পানিনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মুহাম্মদ রাজিব বলেন, পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভরাট করা অংশ পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুনানি শেষে পুকুরের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধভাবে পুকুর, জলাশয় ও জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
























