জুমার দিনে যে সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
- আপডেট সময় : ০৩:৫২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি সুরাও রয়েছে। এতে জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচাকেনা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)
জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা
হাদিসে জুমার দিনের নানা ফজিলতের কথা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদয়ের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বশ্রেষ্ঠ।
এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়। এ দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। আবার এ দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়। কিয়ামতও জুমার দিন সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫০)
এ কারণে জুমার দিনে বিশেষভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে মসজিদে যাওয়ার কথাও হাদিসে রয়েছে।
জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
জুমার দিনের অন্যতম ফজিলত হলো, এ দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন দোয়া কবুলের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে। কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করবেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৬)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলিম নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা কবুল করেন। এরপর তিনি হাতের ইশারায় সময়টির সংক্ষিপ্ততার কথা বোঝান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪০০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৩)
কখন সেই বিশেষ সময়?
জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় নিয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। তবে দুটি সময়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথমটি হলো, ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসা থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়। এ বিষয়ে আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস রয়েছে। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৯)
দ্বিতীয় সময়টি হলো, আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শেষ সময়। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এই সময়কে বিশেষভাবে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
আসরের পর বেশি বেশি দোয়া
হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনার কারণে নির্দিষ্ট একটি মুহূর্ত চিহ্নিত করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে জুমার দিন আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে দোয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তাই এ সময়ে মুসলমানদের বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফার করা উচিত। নিজের ও পরিবারের জন্য কল্যাণ চাওয়ার পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্যও দোয়া করা যেতে পারে।


























