নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৬৮ বার পড়া হয়েছে
ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশীদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায়ে এ আদেশ দেন।
আদালত বলেন, বিচারিক আদালত এভাবে নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় প্রতিটি পরিবারের ওপর বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ কারণে বিচারক মামুনুর রশীদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ। ওই রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।
পরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
হাইকোর্টের রায়ে এবার সিরাজ-উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ তার মা শিরীন আখতার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থেকে ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।
২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরে মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয় এবং আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।



























