০৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

স্মরণকালের ভয়াবহ দাবদাহে পুড়ছে কোরিয়া, মৃত্যু ১৬

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাস থেকে দেশটিতে তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে রাজধানী সিউলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘চরম তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, গত রোববার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বর্তমানে তাপপ্রবাহ পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সিউলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। আগামী তিন দিনও তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়া এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “চরম আবহাওয়া এখন নতুন বাস্তবতা। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে হবে।”

তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সিউল সিটি প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ৬৩ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দা—বিশেষ করে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশাপাশি শহরের তাপমাত্রা কমাতে ২০০টি পানিবাহী ট্রাক প্রতিদিন কয়েক দফায় প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম জলীয় কুয়াশা (মিস্ট) ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে ড্রোনের মাধ্যমে লাউডস্পিকারে তাপপ্রবাহ সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে থার্মাল ক্যামেরা।

সোমবার গোরিয়ং শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪১ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সিউলের গুরো জেলাতেও পারদ প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়, সরাসরি সূর্যের তাপ এবং পাহাড় অতিক্রম করে উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে আসা বাতাসের (ফোহেন প্রভাব) কারণে এই তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া টাইফুন ‘ডলফিন’-এর গতিপথের ওপর আগামী দিনের আবহাওয়া অনেকটাই নির্ভর করবে। টাইফুনটি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছাকাছি এলে বৃষ্টি ও মেঘের কারণে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, তবে অন্যদিকে সরে গেলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

স্মরণকালের ভয়াবহ দাবদাহে পুড়ছে কোরিয়া, মৃত্যু ১৬

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাস থেকে দেশটিতে তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে রাজধানী সিউলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘চরম তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, গত রোববার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বর্তমানে তাপপ্রবাহ পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সিউলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। আগামী তিন দিনও তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়া এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “চরম আবহাওয়া এখন নতুন বাস্তবতা। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে হবে।”

তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সিউল সিটি প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ৬৩ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দা—বিশেষ করে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশাপাশি শহরের তাপমাত্রা কমাতে ২০০টি পানিবাহী ট্রাক প্রতিদিন কয়েক দফায় প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম জলীয় কুয়াশা (মিস্ট) ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে ড্রোনের মাধ্যমে লাউডস্পিকারে তাপপ্রবাহ সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে থার্মাল ক্যামেরা।

সোমবার গোরিয়ং শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪১ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সিউলের গুরো জেলাতেও পারদ প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়, সরাসরি সূর্যের তাপ এবং পাহাড় অতিক্রম করে উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে আসা বাতাসের (ফোহেন প্রভাব) কারণে এই তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া টাইফুন ‘ডলফিন’-এর গতিপথের ওপর আগামী দিনের আবহাওয়া অনেকটাই নির্ভর করবে। টাইফুনটি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছাকাছি এলে বৃষ্টি ও মেঘের কারণে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, তবে অন্যদিকে সরে গেলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।