গাজায় তিন বছর পর ৪০ শিশুসহ ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার গণদাফন
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
২০২৩ সালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১১২ জনের মরদেহ তিন বছর পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে গণদাফন করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০টি শিশু রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান হামলার কারণে এতদিন মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শতাধিক কফিন নিয়ে দেইর আল-বালাহে জড়ো হন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। নিহতদের জন্য জানাজা ও প্রার্থনা শেষে ধ্বংসস্তূপে ঘেরা সড়ক পেরিয়ে কাছের একটি কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর। সেদিন গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত হন। হামলার পর স্থানীয়রা সীমিত সরঞ্জাম দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকি অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, গত শনিবার ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১১২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ওই হামলার ঘটনায় এখনও অন্তত ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর হামলার তীব্রতা কিছুটা কমায় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশির সুযোগ পান। তবে গাজার বিভিন্ন এলাকায় এখনও হাজারো মানুষের দেহাবশেষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি বিভাগের প্রধান জাহের আল-ওয়াহেইদি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৭ হাজার ৪০০ মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তার মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনায় পুরো পরিবার নিহত হওয়ায় নিখোঁজের তথ্য জানানোর মতো কেউ বেঁচে নেই।
এদিকে জাতিসংঘের একটি কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। জুনে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
গত সপ্তাহান্তেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন চুক্তির ঘোষণা এলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চুক্তির লক্ষ্য হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ তৈরি করা হলেও এ বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ওই দিন হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন।
দীর্ঘ সংঘাতে গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষের বেশিরভাগই বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে মানবিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)


























