রক্তস্নাত ৩৬ জুলাই
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৬১ বার পড়া হয়েছে
আজ ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে সেদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের অবসান ঘটে।
পরে ৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যদিও ক্যালেন্ডারের হিসেবে দিনটি ৫ আগস্ট, আন্দোলনকারীরা জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মরণে প্রতীকীভাবে মাসটিকে ‘৩৬ জুলাই’ পর্যন্ত বিবেচনা করেন।
অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয় ৩ আগস্ট ‘একদফা’ দাবি ঘোষণার মাধ্যমে। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নামেন। ৫ আগস্ট ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কারফিউ উপেক্ষা করে ভোর থেকেই মানুষ রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। দুপুর নাগাদ রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একদফা দাবির স্লোগানে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ জুন। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেন। ১ জুলাই থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। আন্দোলনকারীরা নির্বাহী আদেশে কোটা সংস্কারের দাবি জানালেও সরকার বিষয়টিকে আদালতের এখতিয়ার বলে উল্লেখ করে।
১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলন নতুন গতি পায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও ইন্টারনেট সেবা স্থগিতের মতো পদক্ষেপ নিলেও আন্দোলন থামেনি। বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে তা গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের একটি বড় অংশ চোখে গুরুতর আঘাত পান, যাদের অনেকে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে শুরুতে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ এবং পরে মাহফুজ আলম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া ও নির্বাচন আয়োজনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।

























