শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে ভারত দ্বিমুখী নীতি দেখাচ্ছে: রিজভী
- আপডেট সময় : ০৬:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ‘গ্যালারি হামিদুজ্জামান’ ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে একটি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে বেসরকারি আয়োজন উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এটি ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী নীতির উদাহরণ।
তিনি অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে আইনি পরামর্শ দিতে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি পাননি। পরে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করার অনুমতিও ভারত সরকার দেয়নি। অথচ শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
রিজভীর দাবি, শেখ হাসিনা একসময় বলেছিলেন তিনি ভারতকে এমন কিছু দিয়েছেন, যা দেশটি দীর্ঘদিন মনে রাখবে। ভারতের বর্তমান অবস্থান সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এনেছে, তার প্রতি সম্মান দেখানো এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর দায়িত্ব।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তার দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে রিজভী অভিযোগ করেন, তার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, অর্থ পাচার এবং আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হয়েছে। এসব কারণে ইতিহাসে শেখ হাসিনা নেতিবাচকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

























