ভৈরবে দখল-ভরাটে বিলীন ৫৭ খাল
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫২৪ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দখল ও ভরাটের কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে ৫৭টি খাল। ১৯৮৫ সালের সর্বশেষ ভূমি জরিপে এসব খাল ও বিলের অস্তিত্ব রেকর্ডভুক্ত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে অধিকাংশ খালই দখল হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর মিলনস্থলে ভৈরবের অবস্থান। দুই নদীকে কেন্দ্র করে একসময় এখানে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য খাল-বিল ও নালা। এসব জলপথকে ঘিরেই বিকশিত হয় ভৈরবের শহর ও ঐতিহ্যবাহী নৌবন্দর।
ভৈরব কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের প্রবেশমুখ হিসেবেও পরিচিত। একসময় খাল-বিল ও নালায় ঘেরা শহরটির সেই চিত্র এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় সরকারি উদ্যোগে খালের মুখ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। চণ্ডিবের খালের মুখ বন্ধ করে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। একইভাবে মনামরা খালের মুখ আটকে নির্মাণ করা হয় রেলসেতু।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি স্থাপনা নির্মাণের পর সুযোগ নেয় দখলদাররা। একের পর এক খাল ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এতে খালের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া পৌর এলাকার অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিভিন্ন খাল ও নালায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও স্বাভাবিক জনজীবন।
তবে বিলুপ্তপ্রায় খালগুলো উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রথম ধাপে বড় খালগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব খালের সীমানা নির্ধারণের কাজও শুরু হয়েছে।
ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ জানান, খালগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ৫৭টি খালের সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বন্ধ করা হবে খালে ময়লা ফেলা। এতে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি ভৈরবের পুরোনো নৌপথ ও জলপ্রবাহও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
























