০১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র, চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১২:১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৩২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেলসমৃদ্ধ ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত দ্বিগুণের বেশি হবে। একই সঙ্গে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দেশটিতে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের দাবি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য বড় জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এর আওতায় ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে। এতে হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি বাড়বে।

ট্রাম্প জানান, রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তিটি করেছেন। তবে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও শর্ত কী, তা তিনি জানাননি। তার দাবি, এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।

রদ্রিগেজের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। এসব তেলক্ষেত্রে ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে। এতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের জন্য ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের

বিবিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিবিএস নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রাখবে। বাকি অংশ থাকবে অভিজ্ঞ একটি বেসরকারি পরিচালকের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থায়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তেলক্ষেত্রগুলো পরিচালনার জন্য যৌথ উদ্যোগকে ১০০ বছরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিদেশি একটি দেশের সার্বভৌম প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভেনেজুয়েলার আইন ও সংবিধানের সঙ্গে এই চুক্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ না হওয়ায় চুক্তিটির আইনি ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত ভেনেজুয়েলায়

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। দেশটির মোট তেল মজুত আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়।

ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনরুদ্ধারে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ট্রাম্পের অনুমোদিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়।

অভিযানের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপদ ও সঠিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। দেশটির তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণ রাখবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্প এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, ভেনেজুয়েলা একতরফাভাবে মার্কিন তেল, সম্পদ ও তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম দখল করে বিক্রি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র, চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ১২:১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেলসমৃদ্ধ ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত দ্বিগুণের বেশি হবে। একই সঙ্গে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দেশটিতে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের দাবি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য বড় জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এর আওতায় ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে। এতে হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি বাড়বে।

ট্রাম্প জানান, রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তিটি করেছেন। তবে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও শর্ত কী, তা তিনি জানাননি। তার দাবি, এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।

রদ্রিগেজের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। এসব তেলক্ষেত্রে ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে। এতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের জন্য ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের

বিবিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিবিএস নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রাখবে। বাকি অংশ থাকবে অভিজ্ঞ একটি বেসরকারি পরিচালকের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থায়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তেলক্ষেত্রগুলো পরিচালনার জন্য যৌথ উদ্যোগকে ১০০ বছরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিদেশি একটি দেশের সার্বভৌম প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভেনেজুয়েলার আইন ও সংবিধানের সঙ্গে এই চুক্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ না হওয়ায় চুক্তিটির আইনি ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত ভেনেজুয়েলায়

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। দেশটির মোট তেল মজুত আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়।

ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনরুদ্ধারে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ট্রাম্পের অনুমোদিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়।

অভিযানের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপদ ও সঠিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। দেশটির তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণ রাখবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্প এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, ভেনেজুয়েলা একতরফাভাবে মার্কিন তেল, সম্পদ ও তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম দখল করে বিক্রি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।