জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান
- আপডেট সময় : ১২:০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩০ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী আইরিন জুবাইদা খান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পরিচয়পত্র জমা দেন আইরিন খান। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু করেন।
এর আগে গত ৮ জুলাই আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ দায়িত্বে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তিনি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
আইরিন খান দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, লিঙ্গসমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করছেন। ২০২০ সালের আগস্ট থেকে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে দায়িত্ব নেওয়া প্রথম নারী তিনি।
২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন আইরিন খান। এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে প্রায় ২১ বছর কাজ করেন তিনি। বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভারতে সংস্থাটির মিশন প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আইন সংস্থার নেতৃত্ব দেন আইরিন খান। তিনি জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতাও করেছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ভিজিটিং অধ্যাপক এবং দ্য ডেইলি স্টারের পরামর্শক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আইরিন খান বিশ্বব্যাংকের লিঙ্গবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকারবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশোনা করা আইরিন খান মানবাধিকারে অবদানের জন্য ২০০৬ সালে সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন।




















