ব্ল্যাক কফির ৭ উপকারিতা, জানুন কেন পান করবেন
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩২ বার পড়া হয়েছে
চিনি, দুধ বা ক্রিম মেশানো কফির বদলে ব্ল্যাক কফি অনেকের কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা। শুরুতে এর তেতো স্বাদ কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হলেও নিয়মিত পান করার অভ্যাস তৈরি হলে এর বেশ কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে। কম ক্যালোরি থেকে শুরু করে লিভারের স্বাস্থ্য, মেটাবলিজম ও শারীরিক কর্মক্ষমতায়ও ভূমিকা রাখতে পারে ব্ল্যাক কফি।
১. ক্যালোরি খুবই কম
চিনি, দুধ বা ক্রিম ছাড়া এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে সাধারণত মাত্র কয়েক ক্যালোরি থাকে। ফলে অতিরিক্ত চিনি ও ফ্যাট গ্রহণ এড়াতে চাইলে ব্ল্যাক কফি হতে পারে ভালো একটি বিকল্প। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস
কফির বীজে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। তাই কফির সম্ভাব্য উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
৩. লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক
বিভিন্ন গবেষণায় কফি পান এবং লিভারের কিছু রোগের ঝুঁকি কমার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।
২০২৬ সালের একটি গবেষণায় যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংকের ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীকে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে বেশি পরিমাণ কফি পানকারীদের মধ্যে সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার ও লিভার-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকি কম দেখা গেছে।
৪. গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমাতে পারে
কিছু গবেষণায় কফি পান এবং রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কম থাকার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফলে নিয়মিত কফি পান গেঁটেবাত বা হাইপারইউরিসেমিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে গেঁটেবাতের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে শুধু কফির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
৫. ব্যায়ামের আগে বাড়াতে পারে কর্মক্ষমতা
ওয়ার্কআউটের আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফি অনেকের জন্য প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করতে পারে। এর প্রধান কারণ ক্যাফেইন, যা সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক কর্মক্ষমতাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৬. মেটাবলিজমে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে
ব্ল্যাক কফির ক্যাফেইন শরীরের বিপাকীয় হার সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়াতে পারে। এ কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি সামান্য সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু কফি পান করলেই ওজন কমবে—এমনটা নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প হতে পারে না এটি।
৭. কফির আসল স্বাদ উপভোগের সুযোগ
চিনি ও দুধ বাদ দিয়ে কফি পান করলে এর প্রাকৃতিক স্বাদ ও সুগন্ধ আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। শুরুতে তেতো লাগলেও ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হওয়া সম্ভব।
নতুনরা চাইলে হালকা রোস্টের কফি কিংবা ফ্রেঞ্চ প্রেস, মোকা পট বা কোল্ড ব্রুর মতো তুলনামূলক মসৃণ পদ্ধতিতে তৈরি কফি দিয়ে শুরু করতে পারেন।
তবে মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক কফি পান করাই ভালো।


























