০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫১৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বি জেলায় একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজনই শিশু। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু বাড়ি ধসে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বি জেলার একটি এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা। শুরু হয় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান।

বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত আশপাশের বাড়ি

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের মাত্রা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে কারখানার পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু বাড়ির অংশবিশেষ ধসে পড়ে।

এসব বাড়িতে থাকা বাসিন্দাদের কয়েকজনও বিস্ফোরণের শিকার হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করেন।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের কর্মকর্তা সত্যনারায়ণ প্রজাপত প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

নিহত আট শিশুর বয়স ৪ থেকে ১৩ বছর

ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বিস্ফোরণে নিহত আট শিশুর বয়স চার থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। এত অল্প বয়সী শিশুদের প্রাণহানিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া স্থাপনা থেকে হতাহতদের বের করে আনার চেষ্টা করে।

আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি

ঠিক কী কারণে আতশবাজি কারখানাটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি স্থানীয় প্রশাসন। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কারখানাটিতে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কারখানাটির অনুমোদন ও বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।

ভারতে আতশবাজি কারখানায় দুর্ঘটনা

ভারতে আতশবাজি কারখানা ও গুদামে অগ্নিকাণ্ড এবং বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, দাহ্য পদার্থের অনিরাপদ সংরক্ষণ এবং দুর্বল নজরদারিকে অনেক সময় এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি আতশবাজি কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। ওই ঘটনায়ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।

এর পরের মাসে দক্ষিণাঞ্চলের একটি আতশবাজির গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়।

সোমবার কৌশাম্বির বিস্ফোরণের পর ফের আতশবাজি কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

সূত্র: এএফপি, হিন্দুস্তান টাইমস

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভারতে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ১১

আপডেট সময় : ০১:১৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বি জেলায় একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজনই শিশু। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু বাড়ি ধসে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বি জেলার একটি এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা। শুরু হয় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান।

বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত আশপাশের বাড়ি

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের মাত্রা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে কারখানার পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু বাড়ির অংশবিশেষ ধসে পড়ে।

এসব বাড়িতে থাকা বাসিন্দাদের কয়েকজনও বিস্ফোরণের শিকার হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করেন।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের কর্মকর্তা সত্যনারায়ণ প্রজাপত প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

নিহত আট শিশুর বয়স ৪ থেকে ১৩ বছর

ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বিস্ফোরণে নিহত আট শিশুর বয়স চার থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। এত অল্প বয়সী শিশুদের প্রাণহানিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া স্থাপনা থেকে হতাহতদের বের করে আনার চেষ্টা করে।

আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি

ঠিক কী কারণে আতশবাজি কারখানাটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি স্থানীয় প্রশাসন। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কারখানাটিতে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কারখানাটির অনুমোদন ও বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।

ভারতে আতশবাজি কারখানায় দুর্ঘটনা

ভারতে আতশবাজি কারখানা ও গুদামে অগ্নিকাণ্ড এবং বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, দাহ্য পদার্থের অনিরাপদ সংরক্ষণ এবং দুর্বল নজরদারিকে অনেক সময় এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি আতশবাজি কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। ওই ঘটনায়ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।

এর পরের মাসে দক্ষিণাঞ্চলের একটি আতশবাজির গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়।

সোমবার কৌশাম্বির বিস্ফোরণের পর ফের আতশবাজি কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

সূত্র: এএফপি, হিন্দুস্তান টাইমস