বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ, প্রশ্ন তুলছেন শিল্পীরাও
- আপডেট সময় : ০১:১৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নতুন লোগোর নকশা আহ্বান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দর্শক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকে। তাদের মতে, বিটিভির লোগো পরিবর্তনের চেয়ে অনুষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা ও সম্প্রচারের মান উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
চার দশকের ঐতিহ্যবাহী বিটিভির লোগো
১৯৮০ সালে রঙিন সম্প্রচারের যুগে প্রবেশ করে বিটিভি। সে সময় শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের হাতে নতুন রূপ পায় বিটিভির রঙিন লোগো। এরপর প্রায় ৪৬ বছর ধরে এই লোগো দেশের দর্শকদের কাছে বিটিভির পরিচিত প্রতীক হয়ে আছে।
বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খ ম হারূন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিটিভির স্বর্ণালী সময়ের একটি আবেগ এখনো এই লোগোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই পরিবর্তন করা হলেও ঐতিহাসিক লোগোটি সংরক্ষণ করে সেটিকে আরও আকর্ষণীয় করা যেতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান লোগোর সঙ্গে শিল্পী কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে শিল্পী ইমদাদ হোসেন বিটিভির লোগো নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। পরে ১৯৮০ সালে রঙিন সম্প্রচারের সময় মুস্তাফা মনোয়ার সেটিকে নতুন রূপ দেন।
লোগোর বদলে বিটিভির কার্যক্রমে পরিবর্তনের পরামর্শ
বিটিভির লোগো পরিবর্তন না করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খ ম হারূন। তিনি বিটিভির অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা এবং মেধাবী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নতুন কনটেন্ট তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।
এ ছাড়া তথাকথিত ‘অডিশন’ প্রথা বাতিল করে গুণী শিল্পীদের আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা এবং ত্রৈমাসিক অনুষ্ঠান পরিকল্পনার ভিত্তিতে আবারও ‘টিভি গাইড’ প্রকাশের ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন তিনি।
বিটিভির সব চ্যানেলের শূন্য পদ পূরণ, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং শিল্পীদের সম্মানী কাঠামো যুগোপযোগী করার ওপরও জোর দিয়েছেন এই টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব।
বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান
পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টিং অর্গানাইজেশন হিসেবে বিটিভিকে বিজ্ঞাপনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খ ম হারূন। একই সঙ্গে বিটিভির ওয়েবসাইটকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিটিভি এনালগ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরিত হলেও সম্প্রচারকর্মীদের সেভাবে প্রস্তুত করতে না পারাকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তিনি।
লোগো পরিবর্তন নিয়ে শিল্পীদের আপত্তি
বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও সুরকার শেখ সাদী খান। তিনি বলেন, নতুন কিছু করার আগে একটি বিজ্ঞ কমিটি গঠন করে তাদের যুক্তি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার মতে, লোগো পরিবর্তনের চেয়ে মানসম্মত অনুষ্ঠান, সুস্থ সমাজ এবং বিটিভির স্বচ্ছতার দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।
নাট্যকার শাকুর মজিদও উদ্যোগটির সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, বিটিভির লোগো বদলানোর আগে প্রতিষ্ঠানটিকে দর্শকবান্ধব করা দরকার। লোগো পরিবর্তন না করেও বিটিভির কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রী আলিফ আলাউদ্দিনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন—‘বিটিভির লোগো কেন বদলাতে হবে?’ তার পোস্টের মন্তব্যেও অনেকে লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন।
লোগো নয়, বিটিভির মানোন্নয়নের দাবি
সব মিলিয়ে বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ সামনে আসার পর সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকের দাবি, চার দশকের বেশি সময়ের ঐতিহ্য বহন করা লোগো পরিবর্তনের বদলে সেটি সংরক্ষণ করা হোক।
একই সঙ্গে বিটিভির অনুষ্ঠান, সম্প্রচারের মান, দর্শকসম্পৃক্ততা, ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

























