০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

দেশ গঠনে ভাসানী দম্পতির আদর্শ প্রেরণা জোগাবে: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নতুন বাংলাদেশ গঠনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কর্মময় জীবন ও আদর্শ প্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীর রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে মওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবন গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষ দরবার হলে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মওলানা ভাসানীর জীবনে সহধর্মিণীর অবদান

প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পৃথিবীর যেসব গুণী ব্যক্তি কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, তাঁদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের, বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। মওলানা ভাসানীর জীবনেও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, বেগম আলেমা খাতুন ভাসানী ছিলেন শিক্ষানুরাগী। মওলানা ভাসানীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন। বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমি জনকল্যাণমূলক কাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে মানুষের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণেও অবদান রেখেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুণীজনদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের আহ্বান

মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শরীফুল আলম বলেন, গত ১৭ বছরে এসব প্রতিষ্ঠানকে অবহেলার মধ্যে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সরকার গুণীজনদের সম্মান জানাতে চায়।

তিনি আরও বলেন, স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের পাশাপাশি মওলানা ভাসানী ও তাঁর সহধর্মিণীর কর্ম ও আদর্শও ধারণ করতে হবে।

কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা, শ্রমের মর্যাদা, ন্যায্য সুযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের প্রতি ভাসানী দম্পতির দায়বদ্ধতা এসব দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

মানুষের কল্যাণে রাজনীতির শিক্ষা

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন থেকে ত্যাগ, জনকল্যাণ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং নিজের স্বার্থ ত্যাগ করা।

বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। মওলানা ভাসানীর দেখানো ন্যায় ও আদর্শের পথে টাঙ্গাইলকে পরিচালিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশপ্রেম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশপ্রেমকে ধারণ করে দেশ গঠনে কাজ করছেন।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অতিথিরা সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে গিয়ে তাঁর ও বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দেশ গঠনে ভাসানী দম্পতির আদর্শ প্রেরণা জোগাবে: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল

আপডেট সময় : ০২:৪৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

নতুন বাংলাদেশ গঠনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কর্মময় জীবন ও আদর্শ প্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীর রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে মওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবন গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষ দরবার হলে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মওলানা ভাসানীর জীবনে সহধর্মিণীর অবদান

প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পৃথিবীর যেসব গুণী ব্যক্তি কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, তাঁদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের, বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। মওলানা ভাসানীর জীবনেও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, বেগম আলেমা খাতুন ভাসানী ছিলেন শিক্ষানুরাগী। মওলানা ভাসানীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন। বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমি জনকল্যাণমূলক কাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে মানুষের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণেও অবদান রেখেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুণীজনদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের আহ্বান

মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শরীফুল আলম বলেন, গত ১৭ বছরে এসব প্রতিষ্ঠানকে অবহেলার মধ্যে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সরকার গুণীজনদের সম্মান জানাতে চায়।

তিনি আরও বলেন, স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের পাশাপাশি মওলানা ভাসানী ও তাঁর সহধর্মিণীর কর্ম ও আদর্শও ধারণ করতে হবে।

কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা, শ্রমের মর্যাদা, ন্যায্য সুযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের প্রতি ভাসানী দম্পতির দায়বদ্ধতা এসব দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

মানুষের কল্যাণে রাজনীতির শিক্ষা

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন থেকে ত্যাগ, জনকল্যাণ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং নিজের স্বার্থ ত্যাগ করা।

বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। মওলানা ভাসানীর দেখানো ন্যায় ও আদর্শের পথে টাঙ্গাইলকে পরিচালিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশপ্রেম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশপ্রেমকে ধারণ করে দেশ গঠনে কাজ করছেন।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অতিথিরা সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে গিয়ে তাঁর ও বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।