০৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দেশি রসুনের বাজারে ধস, আমদানির উদ্যোগে কৃষকদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৬১১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে উৎপাদিত রসুনের বাজারদর যখন উৎপাদন খরচের তুলনায় কম, তখন বিদেশ থেকে রসুন আমদানির উদ্যোগে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এ সময়ে আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দেশি রসুনের দাম আরও কমে যাবে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাবেন চাষিরা।

কৃষকদের অভিযোগ, আমদানির সুযোগে লাভবান হতে পারেন আমদানিকারক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। বিপরীতে ক্ষতির মুখে পড়বেন দেশের প্রান্তিক রসুনচাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর অনুপনগর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম রসুন আমদানির অনুমতি বা ইমপোর্ট পারমিশন (আইপি) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। এ দাবিতে গত ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে আবেদন করেছেন তিনি।

উৎপাদন খরচের নিচে দাম

কৃষকদের দাবি, দেশের বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে দেশি রসুন কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও জমি প্রস্তুতের খরচ হিসাব করলে এ দামে রসুন বিক্রি করে অনেক কৃষকেরই উৎপাদন খরচ উঠছে না।

তাঁদের আশঙ্কা, আমদানি করা রসুন বাজারে এলে সরবরাহ বাড়ার কারণে দেশি রসুনের দাম আরও কমে যেতে পারে।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “উৎপাদনের মৌসুমে বিদেশি রসুন আমদানি করা হলে কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। উৎপাদিত রসুনের সঠিক দাম নিশ্চিত না করে আমদানির অনুমতি দিলে ভবিষ্যতে কৃষকেরা রসুন চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।”

তিনি বলেন, কৃষকের উৎপাদন খরচ, বাজার পরিস্থিতি ও জাতীয় কৃষি স্বার্থ বিবেচনা করে আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

চাষ কমলে বাড়বে আমদানিনির্ভরতা

কৃষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে লোকসান হলে অনেক চাষি পরবর্তী মৌসুমে রসুনের আবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এতে দেশীয় উৎপাদন কমে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকেরা একই সঙ্গে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও সম্ভাব্য কারসাজি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তবে বাজারে সিন্ডিকেট বা কারসাজির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃষকদের দাবি, দেশি রসুনের দাম উৎপাদন ব্যয়ের নিচে থাকা অবস্থায় আমদানির অনুমতি না দিয়ে প্রথমে স্থানীয় উৎপাদকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

এখন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন রসুনচাষিরা। তাঁদের প্রশ্ন—দেশি কৃষকের উৎপাদন ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই কি অগ্রাধিকার পাবে, নাকি এ সময়ে আমদানির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের স্বার্থই প্রাধান্য পাবে?

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দেশি রসুনের বাজারে ধস, আমদানির উদ্যোগে কৃষকদের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:০০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দেশে উৎপাদিত রসুনের বাজারদর যখন উৎপাদন খরচের তুলনায় কম, তখন বিদেশ থেকে রসুন আমদানির উদ্যোগে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এ সময়ে আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দেশি রসুনের দাম আরও কমে যাবে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাবেন চাষিরা।

কৃষকদের অভিযোগ, আমদানির সুযোগে লাভবান হতে পারেন আমদানিকারক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। বিপরীতে ক্ষতির মুখে পড়বেন দেশের প্রান্তিক রসুনচাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর অনুপনগর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম রসুন আমদানির অনুমতি বা ইমপোর্ট পারমিশন (আইপি) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। এ দাবিতে গত ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে আবেদন করেছেন তিনি।

উৎপাদন খরচের নিচে দাম

কৃষকদের দাবি, দেশের বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে দেশি রসুন কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও জমি প্রস্তুতের খরচ হিসাব করলে এ দামে রসুন বিক্রি করে অনেক কৃষকেরই উৎপাদন খরচ উঠছে না।

তাঁদের আশঙ্কা, আমদানি করা রসুন বাজারে এলে সরবরাহ বাড়ার কারণে দেশি রসুনের দাম আরও কমে যেতে পারে।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “উৎপাদনের মৌসুমে বিদেশি রসুন আমদানি করা হলে কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। উৎপাদিত রসুনের সঠিক দাম নিশ্চিত না করে আমদানির অনুমতি দিলে ভবিষ্যতে কৃষকেরা রসুন চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।”

তিনি বলেন, কৃষকের উৎপাদন খরচ, বাজার পরিস্থিতি ও জাতীয় কৃষি স্বার্থ বিবেচনা করে আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

চাষ কমলে বাড়বে আমদানিনির্ভরতা

কৃষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে লোকসান হলে অনেক চাষি পরবর্তী মৌসুমে রসুনের আবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এতে দেশীয় উৎপাদন কমে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকেরা একই সঙ্গে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও সম্ভাব্য কারসাজি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তবে বাজারে সিন্ডিকেট বা কারসাজির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃষকদের দাবি, দেশি রসুনের দাম উৎপাদন ব্যয়ের নিচে থাকা অবস্থায় আমদানির অনুমতি না দিয়ে প্রথমে স্থানীয় উৎপাদকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

এখন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন রসুনচাষিরা। তাঁদের প্রশ্ন—দেশি কৃষকের উৎপাদন ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই কি অগ্রাধিকার পাবে, নাকি এ সময়ে আমদানির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের স্বার্থই প্রাধান্য পাবে?