ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৩:২০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরের নগরকান্দায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কহিনুর বেগমকে হত্যার দায়ে লিটন মিয়া ওরফে লিটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লুকানোর অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় লিটনকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ দায়রা জজ ও জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দার শশা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে লিটন মিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৬ বছর আগে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কহিনুরকে নির্যাতন করতেন লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
একপর্যায়ে কহিনুরকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন লিটন। এরপর স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়ি থেকে চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন তিনি। বাড়ি না ছাড়লে কহিনুরকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
২০২১ সালের ৭ আগস্ট রাতে মেয়েকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন কহিনুর। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের ঘুম ভেঙে গেলে বিছানায় মাকে দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা ভাইকে বিষয়টি জানায়। পরে ভোরে স্বজনেরা লিটনের বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরের উত্তর পাড়ে কহিনুরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় ২০২১ সালের ৮ আগস্ট নিহতের ভাই রহমতউল্লাহ বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিটন মিয়াকে স্ত্রী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান পিকু বলেন, স্ত্রী হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত লিটন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট।
























