ময়মনসিংহে কাস্টমস সিপাহী হত্যা: মরদেহ ১৫ টুকরা, গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময় : ০৬:০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী রাকিব রায়হানকে হত্যা করে মরদেহ ১৫ টুকরা করার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের মো. ফজলুল হক মির্জার ছেলে মো. রাজু মির্জা (২২) এবং অনন্তপুর গ্রামের মো. সুরুজ মির্জার ছেলে মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পরে বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ, এরপর হত্যা
পুলিশ জানায়, নিহত রাকিব রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার কাঠের খাটিয়ায় রেখে ১৫ টুকরা করা হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার মূল পরিকল্পনায় ছিলেন রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা। তিনি প্রায় চার বছর ধরে রাকিবের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার রাতে রাজু দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাকিবকে পান করান। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
মরদেহ গুমে সহযোগীকে ডাকেন রাজু
পুলিশ জানায়, হত্যার পর ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেন রাজু। এরপর মরদেহ গুম করতে সহযোগী সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে ডেকে নেন তিনি।
দুজন মিলে মরদেহ টয়লেটে নিয়ে ১৫ টুকরা করেন। পরে মরদেহের বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপে লুকিয়ে রাখা হয়।
আলামত নষ্টে ঘর-বাথরুম পরিষ্কার
হত্যার আলামত নষ্ট এবং অপরাধের বিষয়টি গোপন করতে ডিটারজেন্ট পাউডার, হ্যান্ডওয়াশ, হারপিকসহ বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী দিয়ে ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, গরুর মাংস কাটার কাঠের খাটিয়া ও রক্তমাখা একটি পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ২টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে রাজু ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত রাকিব রায়হান ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন।
নিখোঁজের ৯ দিন পর উদ্ধার ১৫ টুকরা মরদেহ
গত ২৪ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রাকিব। স্বজন ও কর্মস্থলে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ২৭ জুলাই তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
এরপর ২ আগস্ট উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত খাল থেকে তিনটি ব্যাগে থাকা রাকিব রায়হানের ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ আগস্ট তার ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
মোবাইল ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহারে নতুন সূত্র
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাকিব নিখোঁজ থাকার সময় তার মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য, আর্থিক লেনদেন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ সম্ভাব্য সব আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।


























