জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’: জামায়াত
- আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫২৯ বার পড়া হয়েছে
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ বলে মন্তব্য করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এটি সংস্কার নয়, এটি হস্তান্তর। এটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স।’ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়ার বদলে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এ ব্যবসায় গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন ও বিপুল ব্যাংকিং সক্ষমতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে ‘বেসরকারি একচেটিয়া’ তৈরি হতে পারে, যার খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাকেই বহন করতে হবে।
জামায়াতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা।
বর্তমান জ্বালানি সংকটকে বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখারও বিরোধিতা করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, বিশ্ববাজার ও ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণেই মূলত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে দাম না বাড়ানোর কারণে বিপিসি প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বলে সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটকে কেন্দ্র করে সরকার তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এতে আন্তর্জাতিক বড় সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ কমে গিয়ে দরদাতা সংকট, বেশি দাম ও সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দ্রুততা আর স্বচ্ছতা পরস্পরবিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার নামে স্বচ্ছতাই বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।’
জামায়াত পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে খসড়া নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে অন্তত ৬০ দিনের জনমত গ্রহণ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানি এবং বেসরকারিকরণের পরিবর্তে বিপিসির সংস্কারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
এ ছাড়া স্বাধীন নিরীক্ষা, বিপিসির বোর্ডে পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ, ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে জ্বালানি আমদানির মূল্য ও পরিমাণ প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট ও কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা খর্বের সব সুপারিশ প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াত বাজার অর্থনীতি বা বেসরকারি বিনিয়োগের বিরোধী নয়; আমরা বিরোধিতা করছি জবাবদিহিতাহীন হস্তান্তরের।’

























