এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
- আপডেট সময় : ০১:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে পুরোনো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি পৃথক ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় একটি হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব নীতি বিভাগ সরকারের ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিষ্ঠান একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো তৈরি করবে। অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ হবে ‘অ্যাকশন টিম’, যারা রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, কর ব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। নীতি প্রণয়নে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বেসরকারি খাত ও শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আমির খসরু বলেন, অর্থনীতির আকার বাড়লেও সে অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়েনি। এই ঘাটতি পূরণে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে করের আওতা বাড়ানো, কর অব্যাহতি যৌক্তিক করা, কর ফাঁকি বন্ধ এবং অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রাটি উচ্চাভিলাষী হলেও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এটি প্রয়োজনীয় বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। উন্নয়নের অর্থায়ন দেশের নিজস্ব সম্পদ থেকেই নিশ্চিত করতে হবে।
রাজস্ব সংস্কারে আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও অংশীদারিত্ব—এই তিন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ‘কন্টাক্ট-ফ্রি’ ও ‘ফেসলেস’ রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলাই লক্ষ্য। এ জন্য ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো ও আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হলো কম কর-জিডিপি অনুপাত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম।





















