আধিপত্য থেকে চাঁদাবাজি, সাড়ে ৭ মাসে গুলিতে নিহত ৫৯
- আপডেট সময় : ১১:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
চলতি বছরের সাত মাস ১৯ দিনে দেশে অন্তত ১২৩টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪০ জন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি গুলির ঘটনা ঘটেছে খুলনায়। সেখানে ৩৭টি ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রামে ২৮টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ১৩টি গুলির ঘটনায় ছয়জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ বুধবার খুলনার লবণচরা এলাকায় আলাদা ঘটনায় দুইজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশি সংঘাত
১২৩টি গুলির ঘটনার মধ্যে ৫৫টির কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে ঘটেছে ১২টি ঘটনা। এর মধ্যে আটটি সরাসরি এলাকা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এবং চারটি বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও বালু উত্তোলন নিয়ে।
নরসিংদীর রায়পুরায় চলতি বছরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অন্তত তিনটি গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ বলছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বেও অস্ত্রের ব্যবহার
ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকেও ঘটেছে বেশ কয়েকটি গুলির ঘটনা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যার ঘটনায় তদন্তে ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন কয়েকজন। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যার পেছনেও ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
চাঁদাবাজি নিয়েও গুলি
চাঁদার দাবিতে বা চাঁদা না দেওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে অন্তত সাতটি গুলির ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এর আগে একই এলাকায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের বাসায় চাঁদার দাবিতে হামলার অভিযোগ ওঠে।
রাজধানীর মতিঝিলে পশুর হাটের ইজারাদারের কার্যালয়ে চাঁদা না দেওয়ায় গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। বাড্ডায় নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদার দাবিতে গুলি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকায় গুলির ঘটনায় উদ্বেগ
রাজধানীতে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার মধ্যে মিরপুরে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এ ঘটনায় তিনি ও আরও একজন আহত হন।
এর আগে কাফরুলে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ বেপারী নিহত হন।
অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন উৎস থেকে অপরাধীদের হাতে অস্ত্র পৌঁছেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিভিন্ন ধরনের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে এখনো ১ হাজার ৩১১টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ অভিযানে চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে ৩২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ হাজার ৮০২টি গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল, শুটারগান, এলজি, রিভলবার, বন্দুক, পাইপগান, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত বিরোধ- সব ক্ষেত্রেই আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
তাদের মতে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র- সমকাল




















