০৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আজ রাঙামাটির ভয়াল পাহাড় ধসের ৯ বছর

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ রাঙামাটির ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধস ট্রাজেডির নবম বার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই সেনাসদস্যসহ ১২০ জন মানুষ। বিভীষিকাময় সেই ঘটনার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেঘের গর্জন কিংবা বৃষ্টির শব্দে বুক কাঁপে পাহাড়ের মানুষের। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময়েও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হয়নি; উল্টো পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনের মহোৎসব চলছে এখনো।

১৩ জুন, ২০১৭। রাঙামাটিবাসীর ক্যালেন্ডারে এক অভিশপ্ত ও শোকাবহ দিন। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল সব চূড়া। চোখের পলকে মাটিচাপা পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় শহরের ভেদভেদি, যুব উন্নয়ন, রূপনগর, শিমুলতলী ও কাপ্তাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রকৃতির সেই নির্মম তাণ্ডবে অকালে ঝরে যায় ১২০টি তাজা প্রাণ।

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৯টি বছর। কিন্তু স্বজনহারা মানুষের কান্না আর বুকফাটা আর্তনাদ আজও থামেনি পার্বত্য এই জনপদে। এখনো আকাশে কালো মেঘ জমলে কিংবা বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করলেই— আতঙ্কে আঁতকে ওঠেন পাহাড়ের বাসিন্দারা।

ট্রাজেডির পর সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কিছু মানবিক সহায়তা দেওয়া হলেও, স্থায়ী পুনর্বাসনের দেখা মেলেনি আজও। উপরন্তু, পাহাড়ের পাদদেশে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের সেই মহাবিপর্যয়ের পর একটি বিশেষজ্ঞ দল পাহাড় ধস রোধে ১১টি জরুরি সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ৯ বছর পার হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আলোর মুখ দেখেনি সেই মহাপরিকল্পনা।

স্থায়ী পুনর্বাসন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকলেও, প্রশাসনের দাবি— বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং পাহাড়ের মানুষকে সচেতন করতে মাঠে কাজ করছেন তারা।

শুধু সাময়িক সচেতনতা কিংবা বর্ষা এলে মাইকিং করার চেনা সংস্কৃতিতে আর আস্থা রাখতে পারছেন না পাহাড়ের মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি, সুপারিশমালার শতভাগ বাস্তবায়নই পারে রাঙামাটিকে চিরতরে পাহাড় ধসের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আজ রাঙামাটির ভয়াল পাহাড় ধসের ৯ বছর

আপডেট সময় : ০২:৪০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আজ রাঙামাটির ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধস ট্রাজেডির নবম বার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই সেনাসদস্যসহ ১২০ জন মানুষ। বিভীষিকাময় সেই ঘটনার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেঘের গর্জন কিংবা বৃষ্টির শব্দে বুক কাঁপে পাহাড়ের মানুষের। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময়েও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হয়নি; উল্টো পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনের মহোৎসব চলছে এখনো।

১৩ জুন, ২০১৭। রাঙামাটিবাসীর ক্যালেন্ডারে এক অভিশপ্ত ও শোকাবহ দিন। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল সব চূড়া। চোখের পলকে মাটিচাপা পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় শহরের ভেদভেদি, যুব উন্নয়ন, রূপনগর, শিমুলতলী ও কাপ্তাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রকৃতির সেই নির্মম তাণ্ডবে অকালে ঝরে যায় ১২০টি তাজা প্রাণ।

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৯টি বছর। কিন্তু স্বজনহারা মানুষের কান্না আর বুকফাটা আর্তনাদ আজও থামেনি পার্বত্য এই জনপদে। এখনো আকাশে কালো মেঘ জমলে কিংবা বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করলেই— আতঙ্কে আঁতকে ওঠেন পাহাড়ের বাসিন্দারা।

ট্রাজেডির পর সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কিছু মানবিক সহায়তা দেওয়া হলেও, স্থায়ী পুনর্বাসনের দেখা মেলেনি আজও। উপরন্তু, পাহাড়ের পাদদেশে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের সেই মহাবিপর্যয়ের পর একটি বিশেষজ্ঞ দল পাহাড় ধস রোধে ১১টি জরুরি সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ৯ বছর পার হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আলোর মুখ দেখেনি সেই মহাপরিকল্পনা।

স্থায়ী পুনর্বাসন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকলেও, প্রশাসনের দাবি— বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং পাহাড়ের মানুষকে সচেতন করতে মাঠে কাজ করছেন তারা।

শুধু সাময়িক সচেতনতা কিংবা বর্ষা এলে মাইকিং করার চেনা সংস্কৃতিতে আর আস্থা রাখতে পারছেন না পাহাড়ের মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি, সুপারিশমালার শতভাগ বাস্তবায়নই পারে রাঙামাটিকে চিরতরে পাহাড় ধসের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে।