অগ্রণী ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাৎ: ব্যবস্থাপকসহ গ্রেপ্তার ৫
- আপডেট সময় : ১২:১৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান দুই ব্যবস্থাপক, এক ক্যাশ কর্মকর্তা ও দুই নিরাপত্তাকর্মীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুপারিশের ভিত্তিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কামরান হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার পাঁচজন যারা
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুন্সিগঞ্জের দিঘীরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক ও শ্রীনগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক রেজাউল হক (৪২)। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।
এ ছাড়া সীমপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার এবং শ্রীনগর শাখার সাবেক ক্যাশ অফিসার মো. জিন্নাহ হোসেন (৩৪) রয়েছেন। তিনিও বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীনগর শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক শরিফ উদ্দিন (৩৯) এবং শাখাটির দুই বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহমেদ (৩০) ও আব্দুল হাই (৪২)।
দুদকের শুনানিতে দুই শতাধিক গ্রাহক
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বুধবার শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় দুদকের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশ নেন।
শুনানিতে গ্রাহকেরা তাদের জমা টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তারা।
দিনভর তদন্তের পর গ্রেপ্তার
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বুধবার দুদকের একটি তদন্ত দল শ্রীনগর বাজার শাখায় যায়। দিনভর তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রাহকদের অভিযোগ ও ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দুদক তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পাইকপাড়া এলাকা থেকে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ শরিফুজ্জামান ওরফে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, একটি লকারের চাবি ও চেকবই উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আত্মসাতের প্রকৃত পরিমাণ, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




















