যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলার ফি
- আপডেট সময় : ১২:২৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ সামনে এসেছে। দেশটির ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের চাকরির প্রশিক্ষণের অনুমতির জন্য সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এই নিয়ম বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
৭০ হাজার ডলার ফি কেন
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) সরকারি নোটিশে প্রস্তাবিত নতুন নিয়মের কথা জানিয়েছে। এর আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএইচএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের অনুমতির জন্য ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমানে ওপিটি ব্যবস্থায় কী সুযোগ আছে
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ থাকে।
পড়াশোনা শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত—এসটিইএম বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সময়ের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।
বর্তমানে ওপিটির জন্য শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০০ ডলার খরচ হয়। সেই তুলনায় প্রস্তাবিত ৭০ হাজার ডলারের ফি কার্যকর হলে খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
কেন নতুন ফি আনতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন
ডিএইচএসের দাবি, নতুন ফি আরোপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রতারণা বন্ধ করা। একই সঙ্গে ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা করাও এর লক্ষ্য।
সংস্থাটি বলছে, নতুন ফি চালু হলে নিয়োগকর্তা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এফ-১ ভিসার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে ডিএইচএস।
চাকরি ও এইচ-১বি ভিসায় প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষ করে সেখানে চাকরি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই কর্ম-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ পান।
পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাই নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শুধু পড়াশোনার সময় নয়, শিক্ষাজীবন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনাতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনার খরচের একটি অংশ কাজের মাধ্যমে সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাদের জন্য প্রস্তাবিত উচ্চ ফি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এখনো চূড়ান্ত হয়নি প্রস্তাব
তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলার ফি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর করার আগে ৩০ দিনের জন্য জনমত নেওয়া হবে।
জনমত গ্রহণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে নিয়মটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিয়োগকর্তাদের নতুন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আরও ৬০ দিন সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএইচএস।
এদিকে প্রস্তাবিত নিয়মটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের অনুমতির ক্ষেত্রে এই ৭০ হাজার ডলারের ফি বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।




















