হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি বাড়ছে, ৩ মাসে নিষ্পত্তি ৯ হাজার ৫৯০
- আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
হাইকোর্টে নতুন রিট মামলার তুলনায় নিষ্পত্তির হার বেড়েছে। এপ্রিল-জুন সময়ে ৪ হাজার ৭২৯ মামলার বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৯ হাজার ৫৯০টি।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট নিষ্পত্তি চলতি বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় মামলার নিষ্পত্তি বেশি হওয়ায় বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও কমেছে।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি।
প্রথম তিন মাসে নিষ্পত্তি ২ হাজার ২১৩
জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয়েছে ৪ হাজার ১১২টি। একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ হাজার ২১৩টি মামলা।
এরপর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নতুন রিট মামলা দায়ের হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। তবে এই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ৯ হাজার ৫৯০টি রিট মামলা।
অর্থাৎ এপ্রিল-জুন সময়ে নতুন মামলার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি রিট নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে জুনের শেষে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টিতে।
বিচারিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব
হাইকোর্টে বিপুলসংখ্যক রিট মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিচারিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে রিট মামলার সংখ্যা আরও কমে আসবে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জনস্বার্থ মামলার নামে ব্যক্তিস্বার্থে রিট করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ রিট দায়েরের পরই গণমাধ্যমের সামনে আসছেন। তিনি এ ধরনের প্রবণতাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত বিরোধে রিট নিয়ে প্রশ্ন
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, জমি দখল, জমির সীমানা কিংবা বিল-বাঁওড় নিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধের ক্ষেত্রেও সরাসরি হাইকোর্টে রিট করা হচ্ছে। অথচ এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সাধারণত নিম্ন আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত আইনি পদ্ধতি অনুসরণ না করে সরাসরি হাইকোর্টে যাওয়ার ফলে রিট মামলার চাপ বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক। কোন ধরনের মামলা হাইকোর্ট গ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়ে আপিল বিভাগের একাধিক রায় রয়েছে।
সংবিধানে পাঁচ ধরনের রিট
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচ ধরনের রিট করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো—
হেবিয়াস করপাস: কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করা হলে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ চেয়ে এই রিট করা যায়।
ম্যান্ডামাস: কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করলে সেই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ চেয়ে এই রিট করা হয়।
সার্টিওরারি: কোনো বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনবহির্ভূত আদেশ দিলে তা বাতিলের জন্য এই রিট করা যায়।
প্রহিবিশন: কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনগত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে মামলা পরিচালনা করলে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ চেয়ে এই রিট করা হয়।
কো-ওয়ারেন্টো: কোনো ব্যক্তি আইনগত যোগ্যতা ছাড়া সরকারি পদে থাকলে তার পদে থাকার বৈধতা যাচাইয়ের জন্য এই রিট করা যায়।
জনস্বার্থে রিটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটের আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ওই রায়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়াও অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চাইতে পারে—এমন সুযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
পরবর্তী সময়ে জনস্বার্থে করা বিভিন্ন রিটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ এসেছে। নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নদী দখল উচ্ছেদ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং পাহাড় কাটা রোধে রিট মামলার ভূমিকা রয়েছে।
এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং নারী-শিশু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায়ও রিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ফলে ব্যক্তিস্বার্থের বিরোধে রিটের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও জনস্বার্থ রক্ষায় রিট মামলার ভূমিকা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
হ্যাশট্যাগ:

























