রাজধানীতে নিরাপত্তায় বসেছে দুই শতাধিক চেকপোস্ট
- আপডেট সময় : ০১:১৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে বসানো হয়েছে দুই শতাধিক চেকপোস্ট। পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত আটটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট
ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুই শতাধিক চেকপোস্ট পরিচালনা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঢাকায় প্রবেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মুখে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
চেকপোস্টগুলোতে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়া যানবাহন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদও করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশের পাশাপাশি এসআরবিও রাত থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে টহল।
ককটেল ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্ত
ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করা হয়েছে। ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫১৫
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য জানানো হয়। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৪৭টি মামলা করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩০ জন, লালবাগে ৩৪ জন, ওয়ারীতে ৬৪ জন, মতিঝিলে ৭৬ জন, তেজগাঁওয়ে ৯২ জন, মিরপুরে ১২০ জন, গুলশানে ৩৭ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৪৬ জন রয়েছেন। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
অভিযানকালে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১০টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি চাপাতি, পাঁচটি চাকু, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ এবং ৫৩টি লোহার পেরেক উদ্ধার করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা এবং ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি তিন বোতল মদ ও ২০ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


























