০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের পরিবারের বিরুদ্ধে ২ মামলা করছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৯১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে তার শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং একাধিক ব্যাংক হিসাবে শত শত কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোজাম্মিল হোসেন এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি নিট সম্পদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা ৪০টি ব্যাংক হিসাবে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য মিলেছে। অন্যদিকে, সানজিদা খানম টুম্পার নামে প্রায় ১৩ কোটি টাকার নিট সম্পদের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

শ্যালকের নামে ৪০ ব্যাংক হিসাবে হাজার কোটি টাকার লেনদেন

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার নিট সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের সামঞ্জস্য নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ৫২৯ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৮ টাকা জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৭ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৩৮ টাকা।

দুদকের দাবি, এসব অর্থের পক্ষে গ্রহণযোগ্য বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি রেজাউল আলম শাহীন। সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে শ্যালকের নামে সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

এ ঘটনায় মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা এবং রেজাউল আলম শাহীনকে আসামি করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শ্যালকের স্ত্রীর নামে ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

দুদকের দ্বিতীয় মামলাটি করা হবে রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে।

সংস্থাটির অনুসন্ধানে তার নামে ১২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৩ টাকার নিট সম্পদ পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস থেকে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬১ টাকা। ফলে অবশিষ্ট ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ২ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টুম্পার নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৫ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৩ টাকা।

দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে মনিরুল ইসলামের কথিত অবৈধ উপার্জনের যোগসূত্র রয়েছে। আত্মীয়দের নামে সম্পদ অর্জন এবং অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

দ্বিতীয় মামলায় মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা, রেজাউল আলম শাহীন ও সানজিদা খানম টুম্পাকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেসব আইনে মামলা হচ্ছে

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর প্রযোজ্য ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে আসামিদের দায় নির্ধারিত হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের পরিবারের বিরুদ্ধে ২ মামলা করছে দুদক

আপডেট সময় : ০৫:২১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে তার শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং একাধিক ব্যাংক হিসাবে শত শত কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোজাম্মিল হোসেন এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি নিট সম্পদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা ৪০টি ব্যাংক হিসাবে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য মিলেছে। অন্যদিকে, সানজিদা খানম টুম্পার নামে প্রায় ১৩ কোটি টাকার নিট সম্পদের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

শ্যালকের নামে ৪০ ব্যাংক হিসাবে হাজার কোটি টাকার লেনদেন

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার নিট সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের সামঞ্জস্য নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ৫২৯ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৮ টাকা জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৭ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৩৮ টাকা।

দুদকের দাবি, এসব অর্থের পক্ষে গ্রহণযোগ্য বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি রেজাউল আলম শাহীন। সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে শ্যালকের নামে সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

এ ঘটনায় মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা এবং রেজাউল আলম শাহীনকে আসামি করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শ্যালকের স্ত্রীর নামে ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

দুদকের দ্বিতীয় মামলাটি করা হবে রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে।

সংস্থাটির অনুসন্ধানে তার নামে ১২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৩ টাকার নিট সম্পদ পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস থেকে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬১ টাকা। ফলে অবশিষ্ট ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ২ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টুম্পার নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৫ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৩ টাকা।

দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে মনিরুল ইসলামের কথিত অবৈধ উপার্জনের যোগসূত্র রয়েছে। আত্মীয়দের নামে সম্পদ অর্জন এবং অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

দ্বিতীয় মামলায় মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা, রেজাউল আলম শাহীন ও সানজিদা খানম টুম্পাকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেসব আইনে মামলা হচ্ছে

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর প্রযোজ্য ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে আসামিদের দায় নির্ধারিত হবে।