১ জানুয়ারি চালু হচ্ছে এনইআইআর
অবৈধ মোবাইল ফোনে ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৩ বার পড়া হয়েছে
অবৈধ মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান ও অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বছরে সরকারের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। রাজস্ব ক্ষতি কমানো ও মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি বন্ধে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে শুরু হচ্ছে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর)।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রতি বছর চোরাই ও অবৈধ হ্যান্ডসেটের কারণে বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিটিআরসির কমিশন সভায় এই রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে এনইআইআর ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুই ধাপে চালু হবে এনইআইআর প্রযুক্তি
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ব্যবস্থাটি দুটি নির্দিষ্ট ধাপে বাস্তবায়ন করবে বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগ:
-
প্রথম ধাপ (১ জানুয়ারি থেকে): প্রাথমিক পর্যায়ে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জনভোগান্তি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হ্যান্ডসেটের সংযোগ বা নিবন্ধন বাতিল করা হবে না।
-
বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে চালু থাকা সব হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে।
-
অনুমোদিত আমদানিকারক ও স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের অবিক্রীত ফোনের আইএমইআই নম্বর ডাটাবেজে যুক্ত করা হবে।
-
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা, অবৈধ বা চোরাচালানের হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
-
-
দ্বিতীয় ধাপ: পরবর্তী সময়ে সুবিধাজনক সময়ে হ্যান্ডসেট বাতিল ও ব্লক করার ফিচারগুলো কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে ক্লোন ফোন শনাক্তকরণ, প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং আর্থিক খাতের জালিয়াতি স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত ও পটভূমি?
২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালু করা হলেও তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধ ফোন বন্ধের মূল ফিচারটি স্থগিত রাখা হয়েছিল। ফলে প্রযুক্তিটির মূল সুবিধা পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিরাপত্তা সংস্থা, এনবিআর এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে এটি চালুর ওপর জোর দিয়ে আসছিল:
-
২৯ অক্টোবর ২০২৪: এনবিআর রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
-
২৮ জুন ২০২৫: ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিকল্পনাটির প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।
-
৯ জুন ২০২৬: নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জাতীয় ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি উল্লেখ করে চিঠি পাঠায়।
-
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ১ জানুয়ারি থেকে এটি চালুর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, অনিবন্ধিত ও ক্লোন হ্যান্ডসেটগুলো মোবাইল ফোন চুরি, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (MFS) মাধ্যমে আর্থিক জালিয়াতির কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২জি নেটওয়ার্ক বন্ধের রূপরেখা
একই সঙ্গে দেশে ফাইভ-জি ও ফোর-জি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং নেটওয়ার্কের আধুনিকায়নে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২জি সমর্থিত হ্যান্ডসেটের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার রূপরেখা অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ফোন উৎপাদন, আমদানি ও বাজারে বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হবে।






















