৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা
কানাডায় ২৪৩ ভিসা আবেদনে জালিয়াতি
- আপডেট সময় : ০১:০৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
কানাডায় অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থা (সিবিএসএ) জানিয়েছে, তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি আবেদনে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
আদালতে হাজির চারজন, একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন:
- রাসেল মির্জা
- মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
- মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া
- কাজী নাফিজ আলম
- মো. রাকিবুল হাসান
তদন্ত শুরু যেভাবে
সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। জব্দ করা কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ
১. পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা
২. ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনে সহায়তা করা
৩. অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা
এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
জাল নথি দিলে কী শাস্তি?
কানাডার অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছর কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। পরিস্থিতিভেদে আরও আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে গুরুতর আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
সিবিএসএর কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংস্থাটি কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা
অভিবাসনসংশ্লিষ্টদের পরামর্শ:
- আবেদনের সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা নিজে যাচাই করুন।
- প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
- ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
২০৯ বাংলাদেশির জন্য ২৪৩টি আবেদন তদন্তের আওতায় এলেও এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সব আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে, আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী বলা যায় না।




















