শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস আজ
- আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / ১৫৭৯ বার পড়া হয়েছে
আজ ৫ মে, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও অভিযানকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
সেদিন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র কোরানের অবমাননার প্রতিবাদসহ ১৩ দফা দাবিতে আলেম-ওলামা ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শাপলা চত্বরে সমবেত হন। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ করা হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, যৌথ বাহিনীর ওই অভিযানে ৩২ জন নিহতের প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা। ওই সময় সরকার উৎখাতের আন্দোলন হচ্ছে বলে শাপলা চত্বর থেকে সমাবেশ উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। বিক্ষোভ দমনে রাতভর অভিযান চালানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন সিকিউরড শাপলা, অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একই অপারেশনের নাম দেয় অপারেশন ক্যাপচার শাপলা। যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে অপারেশন ফ্লাশ আউটে ঠিক কতজন নিহত হয় তার সঠিক পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও তখন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সেদিনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে ৬ মে ভোররাতে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের দুটি গণমাধ্যম দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। ঘটনার পর থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আসছিলেন ভুক্তভোগীরা।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন কর্মসূচি পালন করছে। শাপলা চত্বরে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় বাড়তি নজরদারি রয়েছে বলে জানা গেছে।
মতিঝিলের শাপলা চত্বর আজও নীরবে বহন করে উত্তেজনা, বিভ্রান্তি আর প্রশ্নে ভরা এক ইতিহাসের ভার। আলো-অন্ধকারের সেই সংঘর্ষে কে কতটা হারিয়েছে, আর কে কতটা জিতেছে—তার চূড়ান্ত উত্তর আজও স্পষ্ট নয়।























