যুক্তরাজ্যে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থী কমেছে অর্ধেক
- আপডেট সময় : ০১:২৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাজ্যে হোটেলে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা এক বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের শেষে ১৬০টি হোটেলে ১৬ হাজার ২১ জন আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৪১ জন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটির আশ্রয় ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তন এবং আশ্রয়ের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির কারণে হোটেলে থাকা মানুষের সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি হোটেল থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাড়া বাড়ি ও একাধিক পরিবারের বসবাসের উপযোগী হাউস ইন মাল্টিপল অকুপেশন বা এইচএমওতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ছিল হোটেলে আশ্রয়প্রার্থী
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের হোটেলগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ১৮ জনে পৌঁছেছিল। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এই সংখ্যা কমতে থাকে।
আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হোটেলগুলো গত বছর বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থীদের বিক্ষোভ ও উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। সরকার চলতি সংসদীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এসব হোটেলের ব্যবহার বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আরও ১৩টি হোটেলের ব্যবহার বন্ধ করার কথা জানিয়েছিল সরকার।
তবে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও অস্থায়ী আবাসনে থাকা মানুষের সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে মোট ৬৯ হাজার ৩৮ জন আশ্রয়প্রার্থী অস্থায়ী আবাসনে রয়েছেন।
আশ্রয় ব্যবস্থায় ব্যয় কমেছে ৮ শতাংশ
হোটেল থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল অন্য আবাসনে স্থানান্তরের ফলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্রয় ব্যবস্থাপনা ব্যয় ৮ শতাংশ কমেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন আরও সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে ব্যক্তিগত ভাড়া বাড়িতে তাদের রাখার জন্য বাড়তি অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে সরকার। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে সরকার সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনছে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করছে।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন জমে থাকা সংখ্যা কমেছে, হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এবং নির্বাসন ও ফেরত পাঠানোর সংখ্যা বেড়েছে।
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি কমেছে ২৩ শতাংশ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ঘটনা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমেছে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং ফরাসি পুলিশের নৌকা আটকানোর সংখ্যা বৃদ্ধিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময়ে ফ্রান্সের সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়েছিল। এর আওতায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করা কিছু অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য যুক্তরাজ্যে আসার নিরাপদ ও বৈধ পথ রাখার পরিকল্পনা করা হয়। নীতিটি ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নামে পরিচিত।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চুক্তি কার্যকরের পর ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর সময় বলপ্রয়োগের ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের মোট ২১০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮১টি ঘটনায় শারীরিক নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।
দাতব্য সংস্থাগুলো দাবি করেছে, ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর সময় কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও তারা নথিবদ্ধ করেছে।
শাবানা মাহমুদ বলেন, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার ঘটনা কমলেও এ বিষয়ে আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। মানবপাচার ঠেকাতে ফ্রান্সের সৈকতসহ বিদেশেও নজরদারি ও অভিযান বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আশ্রয় আবেদনের জট কমলেও আপিল বাড়ছে
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির নুনি ইয়র্গেনস বলেন, আশ্রয়ের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারায় সরকার অনেক হোটেল খালি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখন আদালতে আশ্রয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন জমা পড়ছে।
এদিকে অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগে স্পনসর করার অধিকার হারানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে অভিবাসী কর্মীদের স্পনসর করার লাইসেন্স বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪০৩টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮২৮।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল থেকে সরিয়ে অন্য আবাসনে নেওয়াই সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়। তাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস






















