মেহেরপুরের বাজারে উঠছে জিআই স্বীকৃত হিমসাগর আম
- আপডেট সময় : ০৭:২৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / ১৬০৯ বার পড়া হয়েছে
মেহেরপুরের বাজারে উঠতে শুরু করেছে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বিখ্যাত ‘হিমসাগর’ আম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বালাইনাশক, সার ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের কারণে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। লোকসান এড়াতে হিমাগার স্থাপন এবং সরাসরি বিদেশে রপ্তানির দাবি তাদের।
স্বাদে ও গুণে অনন্য হওয়ায় মেহেরপুরের আমের সুখ্যাতি দেশজুড়ে। বাজারে এখন উঠতে শুরু করেছে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সুস্বাদু ‘হিমসাগর’। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলায় মোট ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টরেই চাষ হয়েছে হিমসাগর জাতের আম।
আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন নিয়ে সন্তুষ্ট চাষীরা। তবে বাদ সেধেছে বাজারদর। বাগানীদের অভিযোগ— বালাইনাশক, সার ও দিনমজুরের মজুরি বেশি হওয়ায় এবার পরিচর্যার ব্যয় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমের দাম মিলছে না। দেশজুড়ে সব অঞ্চলের আম একসাথে বাজারে আসায় গত কয়েক বছর ধরেই লোকসান গুনতে হচ্ছে মেহেরপুরের আম চাষীদের। এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে তারা মেহেরপুরে একটি বিশেষায়িত আম সংরক্ষণাগার বা হিমাগার তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মেহেরপুরের আমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ না হওয়ায় হতাশ বাগান ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা। আন্তর্জাতিক এই বাজার ধরতে সরকারের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা এবং রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে চাষীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের দাবি তাদের।
চাষীদের এই সংকট সমাধানে আশার বাণী শোনাচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। বিদেশি বায়ারদের সাথে বাগান মালিকদের সংযোগ তৈরি এবং জেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, সরকারি হিমাগার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি রপ্তানির দুয়ার উন্মোচিত হলে, মেহেরপুরের সুস্বাদু আম চাষীদের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে— এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

























