মতপার্থক্য ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ০৩:১২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই মতের ভিন্নতাকে সম্মান করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য যেন সংঘাত বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গণতন্ত্রের ভিত্তি। প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
হাবিপ্রবির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা
সাক্ষাৎকালে হাবিপ্রবির উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের বিষয়েও আলোচনা করেন উপাচার্য।
শিক্ষক নিয়োগ ও আবাসন সংকট
হাবিপ্রবির শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ এবং ছাত্রীদের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য।
জবাবে রাষ্ট্রপতি এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিনিধিদলকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশের তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে হাবিপ্রবিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার পাশাপাশি গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ
সাক্ষাৎকালে হাবিপ্রবির উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং হাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।























