মক্কায় ড্রোন নিক্ষেপের দাবি, সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষায় ধ্বংস
- আপডেট সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কার আকাশসীমায় একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি আরব। সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল মালকি জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া ড্রোনটি মক্কার কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করে।
তবে মক্কায় হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হুথি গোষ্ঠী। তারা বলেছে, ইয়েমেনের পক্ষ থেকে মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার হুমকি দেওয়া হয়নি।
মক্কার আকাশে ড্রোন শনাক্ত
সৌদি-ইয়েমেন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল মালকি বলেন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার আকাশসীমায় একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন শনাক্ত করা হয়। পরে সেটিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
তিনি বলেন, কাবা, মসজিদে নববি এবং দুই পবিত্র মসজিদে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনা ও মুসল্লিদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার হুথিদের
সৌদি পক্ষের অভিযোগের পর মঙ্গলবার রাতেই হুথি গোষ্ঠীর একটি বিবৃতি প্রচার করে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সি।
বিবৃতিতে হুথি হাইকমান্ড মক্কায় হামলার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসত্য বলে দাবি করে। একই সঙ্গে মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগেও মক্কা লক্ষ্য করে হামলার দাবি
সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কা লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল হুথিদের বিরুদ্ধে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ক্ষেপণাস্ত্রও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিহত করা হয়েছিল।
সৌদির কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।
ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত শুরু হয় ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর। ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে।
ফের বাড়ছে সৌদি-হুথি উত্তেজনা
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর কয়েক বছর তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে।
মক্কায় ড্রোন হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের দাবি এবং হুথিদের অস্বীকার—দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ফলে হামলার দায় ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।



























