ফেলানী ও মোদি-বিরোধী আন্দোলনের ছবি সরানো হয়েছে?: নাহিদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ১২:৪১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে ফেলানী হত্যাকাণ্ড, সীমান্ত হত্যার তথ্য এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতকে ভয় পেয়েই কি এসব ঐতিহাসিক উপাদান বাদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তারা যখন জাদুঘর পরিদর্শনে এসেছিলেন, তখন এখানে ফেলানীর স্মৃতি সংবলিত ছবি, সীমান্তে নিহত বাংলাদেশিদের তথ্য এবং মোদি-বিরোধী আন্দোলনের কিছু ছবি ছিল। তবে এবার সেগুলো দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। যদি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ভয়ের কারণে এগুলো সরানো হয়ে থাকে, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশে যে কর্তৃত্ববাদী শাসন ছিল, তার সঙ্গে ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রদর্শনীতে সেই বিষয়গুলো যথাযথভাবে উঠে আসেনি।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা প্রয়োজন।
জাদুঘরের প্রদর্শনী নিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলার শিক্ষার্থী-জনতার ভূমিকা আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা দরকার। বর্তমানে পরিচিত কিছু মুখকে কেন্দ্র করে ইতিহাস উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, “জুলাই জাদুঘর কোনো দলীয় ইতিহাসের জায়গা হওয়া উচিত নয়। এটি জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।”
জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, জাদুঘর পরিচালনায় আরও দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষিত গাইড এবং অডিও গাইডসহ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
তিনি জুলাই জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান এবং এজন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান।
এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
























