০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘অন্যায়ের সামনে নীরব থাকব না’, জাতিসংঘে এরদোয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব না থাকার অঙ্গীকার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে কষ্ট সহ্য করতে হবে এবং মূল্যও দিতে হবে। তবে অন্যায়ের সামনে তুরস্ক নীরব থাকবে না এবং নিপীড়ন মেনে নেবে না।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন এরদোয়ান। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গাজা পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

ভাষণে গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর আরও চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান এরদোয়ান। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় দ্রুত পুনর্গঠনকাজ শুরুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, সময় নষ্ট না করে গাজার পুনর্গঠন শুরু করতে হবে। এ জন্য ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এক বছর আগে শারম আল-শেখে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি তুরস্ক এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চুক্তিটির বাস্তবায়নও তুরস্ক পর্যবেক্ষণ করবে।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে তুরস্ক

১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এরদোয়ান।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ঠেকানোর সব চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শুরুতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। আব্বাস উপস্থিত না থাকলেও তুরস্ক স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে যাবে বলে জানান তিনি।

গাজায় মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরলেন এরদোয়ান

গাজায় চলমান মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, অঞ্চলটি বিশ্বের শিশুদের সবচেয়ে বড় কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে গাজায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো স্বজনদের খুঁজছেন ফিলিস্তিনিরা। অনেক শিশু হামলায় অঙ্গ হারিয়ে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে।

এরদোয়ান আরও দাবি করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গাজার হাসপাতালগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি জেনারেটর অচল হয়ে পড়েছে। তিনি গাজার পরিস্থিতিকে বর্তমান সময়ের অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ সংস্কারের আহ্বান

জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ বর্তমান পরিস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছে। তাই সংস্থাটির সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

এরদোয়ান বলেন, গাজার শিশুরা নিরাপদে বসবাস করতে পারলে, ফিলিস্তিনি শিশুরা যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের পরিবর্তে আকাশে ঘুড়ি দেখতে পারলে এবং লেবাননের শিশুরা বোমার শব্দে ঘুম থেকে না উঠলে জাতিসংঘের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে।

‘ইতিহাস ও সত্য নীরব থাকবে না’

ভাষণের শেষ পর্যায়ে এরদোয়ান বলেন, তার বক্তব্যে কেউ কেউ অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। তবে অন্যায়ের শিকার মানুষের পক্ষে তুরস্ক কথা বলে যাবে।

তুর্কি কবি সেজাই কারাকোচকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মানুষ নীরব থাকলেও ইতিহাস নীরব থাকবে না এবং সত্যও নীরব থাকবে না।

এরপর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এরদোয়ান বলেন, প্রয়োজনে তুরস্ক কষ্ট সহ্য করবে এবং মূল্যও দেবে। কিন্তু অন্যায়ের সামনে নীরব থাকবে না এবং নিপীড়ন কখনো মেনে নেবে না।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

‘অন্যায়ের সামনে নীরব থাকব না’, জাতিসংঘে এরদোয়ান

আপডেট সময় : ০১:৩৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব না থাকার অঙ্গীকার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে কষ্ট সহ্য করতে হবে এবং মূল্যও দিতে হবে। তবে অন্যায়ের সামনে তুরস্ক নীরব থাকবে না এবং নিপীড়ন মেনে নেবে না।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন এরদোয়ান। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গাজা পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

ভাষণে গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর আরও চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান এরদোয়ান। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় দ্রুত পুনর্গঠনকাজ শুরুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, সময় নষ্ট না করে গাজার পুনর্গঠন শুরু করতে হবে। এ জন্য ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এক বছর আগে শারম আল-শেখে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি তুরস্ক এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চুক্তিটির বাস্তবায়নও তুরস্ক পর্যবেক্ষণ করবে।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে তুরস্ক

১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এরদোয়ান।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ঠেকানোর সব চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শুরুতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। আব্বাস উপস্থিত না থাকলেও তুরস্ক স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে যাবে বলে জানান তিনি।

গাজায় মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরলেন এরদোয়ান

গাজায় চলমান মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, অঞ্চলটি বিশ্বের শিশুদের সবচেয়ে বড় কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে গাজায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো স্বজনদের খুঁজছেন ফিলিস্তিনিরা। অনেক শিশু হামলায় অঙ্গ হারিয়ে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে।

এরদোয়ান আরও দাবি করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গাজার হাসপাতালগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি জেনারেটর অচল হয়ে পড়েছে। তিনি গাজার পরিস্থিতিকে বর্তমান সময়ের অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ সংস্কারের আহ্বান

জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ বর্তমান পরিস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছে। তাই সংস্থাটির সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

এরদোয়ান বলেন, গাজার শিশুরা নিরাপদে বসবাস করতে পারলে, ফিলিস্তিনি শিশুরা যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের পরিবর্তে আকাশে ঘুড়ি দেখতে পারলে এবং লেবাননের শিশুরা বোমার শব্দে ঘুম থেকে না উঠলে জাতিসংঘের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে।

‘ইতিহাস ও সত্য নীরব থাকবে না’

ভাষণের শেষ পর্যায়ে এরদোয়ান বলেন, তার বক্তব্যে কেউ কেউ অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। তবে অন্যায়ের শিকার মানুষের পক্ষে তুরস্ক কথা বলে যাবে।

তুর্কি কবি সেজাই কারাকোচকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মানুষ নীরব থাকলেও ইতিহাস নীরব থাকবে না এবং সত্যও নীরব থাকবে না।

এরপর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এরদোয়ান বলেন, প্রয়োজনে তুরস্ক কষ্ট সহ্য করবে এবং মূল্যও দেবে। কিন্তু অন্যায়ের সামনে নীরব থাকবে না এবং নিপীড়ন কখনো মেনে নেবে না।