নৈতিক শিক্ষায় কম গুরুত্বই সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
সমাজে নৈতিক শিক্ষার প্রতি কম গুরুত্ব দেওয়ার কারণে নানা ধরনের অধঃপতন ও অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নৈতিক শিক্ষার অভাব হলে মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দের মৌলিক পার্থক্য বোঝার সক্ষমতা কমে যায়। ফলে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে মূল্যবোধের সংকট তৈরি হতে পারে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো) আয়োজিত ‘ইয়াং জার্নালিস্ট চেঞ্জ মেকার, ভয়েস ফর ভালনারেবল চিলড্রেন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিশুদের শিক্ষা, অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পরিবার, রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরলেন মন্ত্রী
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করলেই একজন মানুষ পরিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠে না। এর পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধের শিক্ষাও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একজন শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সঠিক-ভুল, দায়িত্ব-কর্তব্য এবং অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোর শিক্ষা দিতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো গেলে সমাজে নানা ধরনের অনিয়ম ও অবক্ষয় কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১৮ বছর পর্যন্ত শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর লেখাপড়া ও মৌলিক বিকাশের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনো শিশু যেন অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।
তবে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও উদাসীনতার কারণে অনেক শিশু মাঝপথেই শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।
মন্ত্রী বলেন, শিশুদের স্কুলে পাঠানোর পাশাপাশি তাদের নিয়মিত পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। এজন্য পরিবারকে যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
পরিবার ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান
শিশুদের শিক্ষা ও মৌলিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। তাঁর মতে, একটি শিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিরাপদ ও সহায়ক না হলে শুধু বিদ্যালয়ে পাঠানোর মাধ্যমে তার সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শিশুদের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগ
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তাদের শুধু সহায়তা দেওয়ার মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে হবে।
পথশিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
শিশু অধিকার রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শুধু তার নিজের নয়, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শিশুদের যথাযথ শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে তরুণ সাংবাদিকদের শিশু অধিকার ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুদের কণ্ঠস্বর সমাজের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনুষ্ঠানে মত দেওয়া হয়।




















