বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
- আপডেট সময় : ০১:২০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, সম্ভাব্য পাল্টাপাল্টি হামলা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে এই চাপ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। এর মাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাড়ছে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলা হলে পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল উৎপাদন ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। আর এ ধরনের আশঙ্কাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কেনাবেচা শুরু করেন। ফলে প্রকৃত সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি না হলেও বাজারে দামের ওপর চাপ পড়ে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়।
ফলে এই নৌপথে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা সংকট কিংবা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবসায়ীরা তেলের দামে অতিরিক্ত ‘ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ যোগ করছেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাকে বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান বাজারদরেই অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দামে।
আরও বাড়তে পারে তেলের দাম
এর আগে সর্বশেষ অধিবেশনেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এরপর নতুন করে দাম বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হবে।
সেক্ষেত্রে তেলের দাম বর্তমান পর্যায় থেকে আরও বাড়তে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাবের আশঙ্কা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব শুধু তেল আমদানির ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি তেলের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য তেলের মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। আমদানি ব্যয় বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন বিশ্বের বড় অর্থনীতি ও জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো।
বর্তমানে বাজারের প্রধান অনিশ্চয়তা হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয় এবং তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো কতটা নিরাপদ থাকে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বড় ধরনের উল্লম্ফন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
























