বড় ফেনী দখল করে মৎস্য ঘের, শতাধিক একর জমি এখন পতিত জলাশয়
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮৮ বার পড়া হয়েছে
বড় ফেনী নদীতে জেগে ওঠা চর দখল করে মৎস্য চাষ করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব চর দখল করে মৎস্য ঘের গড়ে তোলা হয়। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ঘেরগুলোর মালিকানা হাতবদল হলেও দখল পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
মৎস্য ঘেরের কারণে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চরখোয়াজের লামছি মৌজায় প্রায় শতাধিক একর জমি গত চার বছর ধরে অনাবাদি পড়ে আছে। একসময় এসব জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হলেও বর্তমানে তা পতিত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, মিলছে না প্রতিকার
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো চাষাবাদের বাইরে রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের পাশে বসবাসকারী নিম্নআয়ের কয়েকশ পরিবার বাধ্য হয়ে এসব জলাশয়ের দূষিত পানি ব্যবহার করছে। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মশা ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কৃষকদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে শতাধিক একর জমি আবারও চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব। এতে একদিকে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে বেড়িবাঁধের পাশে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষিত হবে।
চার বছর ধরে চাষাবাদ বন্ধ
স্থানীয় কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, একসময় এসব জমিতে আমন, আউশ ও রবি শস্য চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু প্রায় চার বছর ধরে জমিগুলো অনাবাদি পড়ে আছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে জমিগুলো চাষাবাদ উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেন মাসুদ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের দাবির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এর প্রতিকার প্রয়োজন।
ফেনী জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামছুউদ্দিন খোকন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় শতাধিক একর জমি পতিত পড়ে আছে। কৃষকরা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ছিলেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিকারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের আশ্বাস
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারজান হোসাইন জানান, বিষয়টি জানার পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। খুব শিগগিরই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জমিগুলো আবাদযোগ্য করা হবে।




















